ইরানে পুলিশ স্টেশনে হামলা, পুলিশসহ নিহত ১৫

ইরানে চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ক্রমশই সহিংস হয়ে ওঠছে। কঠোরভাবে দমনের আভাস দিলেও শুরুতে তেমন একটা দমন কৌশলে যায়নি দেশটির সরকার। শুরুর দিকে দুজন বিক্ষোভকারী নিহত হলেও পরবর্তী তিনদিনে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সোমবার বিক্ষোভে সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। অপরদিকে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিহত হয় দেশটির একজন পুলিশ সদস্য। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে হতাহতের এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও বিক্ষোভ দমনে অন্তত ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা থানায় ও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। রাজধানী তেহরানে এনগালেব স্কয়ারের পাশে ছোট গ্রুপে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টেয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

দেশটির আধা-সরকারি গণমাধ্যম মেহর জানিয়েছে, নাজাফাবাদ শহরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাসাদে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও ক্রমেই তা দেশটির অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। এই বিক্ষোভ এখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকার দাবি করেছে বিক্ষোভকারীরা সহিংসতার মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল বলেছেন, জনগণের প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সহিংসতা সহ্য করা হবে না। সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির বিপ্লবী রেভ্যুলশনারি গার্ড। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও বিক্ষোভকারীদের কঠোর হস্তে দমনের হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলাম বিপ্লবের পর ২০০৯ সালে সে দেশে সবচেয়ে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হয়। সেসময় সরকার কঠোর হস্তে ওই বিক্ষোভ দমন করেছিল। এরপর আবারও নতুন করে এই বিক্ষোভ শুরু হলো। বিক্ষোভের জন্য ইরান সরকার অবশ্য বহিঃশক্তির ইন্ধনকে দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রের পতাকা ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিও পুড়িয়েছে।-আল জাজিরা।

মতামত দিন