পুঁজিবাজারে কয়েকটি মাইলফলক

২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে স্পর্শ করেছে বেশ কয়েকটি মাইলফলক। গেলো নভেম্বের ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করেছে ৬ হাজার ৩৩৬ পয়েন্টে। যা এ সূচক চালু করার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট। আর ডিএসই বাজার মূলধনও গড়েছে নতুন রেকর্ড। তবে কমেছে বেনিফিয়ারি ওনার্স হিসাব বা বিনিয়োগকারি সংখ্যা।

২০১৭ সাল…প্রায় ৬ বছর পর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারিদের কাছে ধরা দিয়েছে সোনালি বছর হিসেবে। ২০১০ সালের ধসের পর এ বছর বাজারের প্রায় সবকটি সূচকই ছিলো ইতিবাচক ধারায়।

মাঝখানে দুয়েক দফা কিছুটা উত্থানপতন বাদ দিলে, বছরের শুরুর উর্ধ্বমুখি ধারা বজায় ছিলো পুরোটা সময়। সদ্য সমাপ্ত বছরে দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ১ হাজার ২০৮ পয়েন্ট, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ। বাজার মূলধনের প্রবৃদ্ধিও ছিলো চোখে পড়ার মতো, বেড়েছে ৮১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।

শুধু সূচকই নয়, লেনদেনও ছিলো আশাজাগানিয়া। ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৮৭৫ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭৭ শতাংশ। এজন্য বিদেশি পুঁজির ভূমিকাও কম নয়। গত ১২ মাসে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। টাকার অঙ্কে যা ১ হাজার ৭০০ কোটির মতো।

তবে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কমেছে, নতুন তালিকাভুক্তির সংখ্যা। ২০১৭ সালে ৯ টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড নতুন করে তালিকাভুক্ত হয় বাজারে। তবে বিতর্ক জন্ম দেয় বুকবিল্ডিং পদ্ধতি, সেই সাথে লেনদেনের প্রথম দিনই শেয়ারে দামের অস্বাভাবিক উল্লম্ফন নিয়েও ছিলো আলোচনা-সমালোচনা।

সূচক ও লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে প্রযুক্তির ব্যবহারও। ২০১৭ সালে ডিএসই মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারির সংখ্যা ছুঁয়েছে ২৫ হাজারের ঘর। যা আগের বছরের তিনগুণ। তবে কমেছে বেনিফিসিয়ারি ওনার্স বা বিও হিসাব। বছর শেষে বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখে, যা ছিলো ২৯ লাখের বেশি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন সূচকও ছিলো উর্ধ্বমুখি। গত একবছরে সিএসই প্রধান সূচক বেড়েছে ৩ হাজার ৭৯০ পয়েন্ট।

মতামত দিন