পরিচালন মুনাফা বাড়ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে

ধারাবাহিকভাবে পরিচালন মুনাফায় উল্লম্ফন ঘটিয়ে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের ইসলামী ধারার কোম্পানি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। গত তিন বছরে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধির হার ৩৫ শতাংশের ওপরে। কিন্তু মুনাফার সাথে তাল মিলিয়ে শেয়ার দর নড়াচড়া না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্বিকভাবে আগের বছরের তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। আমদানি খাতও অনেক গতিশীল ছিল। এছাড়া সার্ভিস চার্জ থেকেও মুনাফার একটি বড় অংশ এসেছে। পাশাপাশি ঋণের চেয়ে আমানতের ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট কমানোর ধারাবাহিক প্রভাব মুনাফার ওপর পড়েছে। যদিও মাঝামাঝিতে ঋণ ও আমানতের সুদহার (স্প্রেড) কিছুটা কমেছিল। কিন্তু শেষদিকে এসে তা আবার বেড়ে গেছে। এ কারণেই ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।

জানা যায়, আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে যে মুনাফা থাকে, সেটিই কোনো ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা। পরিচালন মুনাফা থেকে খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) এবং সরকারকে কর প্রদান করতে হয়। প্রভিশন ও কর-পরবর্তী এ মুনাফাই হলো একটি ব্যাংকের প্রকৃত বা নিট মুনাফা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৪৭৫ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে। আর ২০১৬ সালে ব্যাংকের পরিচালনা মুনাফা ৩৭২ কোটি টাকা। সে হিসেবে ২০১৭ সালে ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে ১০৩ কোটি বা ২৭.৬৯ শতাংশ। যদিও এর আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা বেড়েছিল ১১২ কোটি টাকা বা ৪৩.৯২ শতাংশ।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফার্স্ট সিকিউরিটি ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আশা করছি, ২০১৮ সালে ব্যাংকটি আরো ভালো করবে।

এদিকে, অন্যান্য কোম্পানির সামান্য মুনাফা বৃদ্ধির খবরে শেয়ার দর যেমন প্রভাব পরে তার কোন রেশই নেই ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দরে। কেননা ইসলামী ধারায় ব্যাংকগুলোর মধ্যে মুনাফায় থাকা এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরই সর্বনিম্নে। তাই এ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ ক্যাশ এবং ৫ শতাংশ স্টকসহ মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। আলোচিত বছরে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.০৮ টাকা এবং এককভাবে ২.০৭ টাকা। যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল যথাক্রমে সমন্বিত ইপিএস ১.২৬ টাকা এবং এককভাবে ১.১৮ টাকা।

২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির মোট ৭১ কোটি ২৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৮২টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৪.২০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৪.৪৩ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪.৯৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৬.৪১ শতাংশ।

মতামত দিন