রোহিঙ্গা শিবিরে কার্যক্রম চালাচ্ছে লস্কর-ই-তৈয়বা!

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অনেকটা প্রকাশ্যেই কাজ করছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা। ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন (এফআইএফ) নামে একটি এনজিওর ব্যানারে সংগঠনটি কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বলা হয়ে থাকে, এফআইএফ লস্কর-ই-তৈয়বার মানবিক কার্যক্রম ও তহবিল সংগ্রহকারী অঙ্গ সংস্থা। পাকিস্তানের করাচিতে এফআইএফ’র প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

জানা গেছে, এফআইএফ কার্যক্রমের সঙ্গে উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকজন জামায়াতপন্থী জনপ্রতিনিধি ও জামায়াত নেতা জড়িত রয়েছেন।

উখিয়ার কুতুপালং, টেকনাফের হোয়্যাইকং ও শামলাপুরে এফআইএফ তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ওই তিন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় তিনজন জনপ্রতিনিধি লস্কর-ই-তৈয়বার কার্যক্রমের নৈপথ্যে রয়েছেন। ওই জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি এফআইএফ’র কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়াও এফআইএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে উখিয়া ও টেকনাফের জামায়াত-শিবিরের উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরও দেখা গেছে।

এনজিওর ব্যানারে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও কিছুই জানে না স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি এই সংস্থাটি কী এবং কোথা থেকে পরিচালিত হয় তারও কোনো তথ্য নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেজারি’র তথ্য অনুযায়ী, করাচিভিত্তিক ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশনের (এফআইএফ) ভাইস চেয়ারম্যান শহীদ মাহমুদ। এই পাকিস্তানি নাগরিক লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেজারি’র কাউন্টার টেররিজমের তালিকায় রয়েছে ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশনের নাম।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কক্সবাজারের সভাপতি নাজনীন সরওয়ার কাবেরি বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে লস্কর-ই-তৈয়বার মদদপুষ্ট এফআইএফ’র কার্যক্রম চালানো একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের ইন্ধনেই এফআইএফ রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এফআইএফ’র কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এফআইএফ নামের কোনো এনজিওর সঙ্গে জামায়াতের কেউ জড়িত নয়। যেসব ব্যক্তি ওই এনজিওর সাথে জড়িত তারা কেউ জেলা বা উপজেলা জামায়াতের নেতাও নন।’

তিনি বলেন, হয়তো ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো নেতা এসব কাজ করতে পারেন। তবে তাদের দায় জামায়াত নেবে না।

রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘এফআইএফ নামের একটি এনজিওর কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু ত্রাণ সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণের খবর আমরা পেয়েছি। তারা অনুমতি কিভাবে পেল কিংবা অনুমতি ছাড়াই তারা কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, এফআইএফ’র সাথে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই তৈয়বার কোনো যোগসাজশ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এফআইএফ’র কাজ করার অনুমতি নেই বলে পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, লুকিয়ে বা হঠাৎ এসে এফআইএফ রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে আবার গা-ঢাকা দেয়। তাদের কোনো নির্দিষ্ট অফিস নেই বলেও দাবি করেন এই ক্যাম্প ইনচার্জ।

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকারুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো এনজিও সরকারবিরোধী কোনো কাজ করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এফআইএফ’র কোনো কার্যক্রম পরিচালনার খবর তিনি জানেন না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা এনজিওকে কাজ করতে দেয়া হবে না। অনুমতিবিহীন কিছু সন্দেহভাজন এনজিওর একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

মতামত দিন