নাটোরের চলনবিল জাদুঘর এর অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে

মোঃ হাসিবুল হাসান, নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
দেশের বৃহত্তম জলাভূমির জনপদ চলনবিল। এ অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম সংরক্ষণাগার চলনবিল জাদুঘর। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার দুর্গম এলাকা খুবজিপুরে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয় জাদুঘরটি। পরবর্তীতে জাদুঘরটি প্রত্নতত্ব অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে গেলেও পরিবর্তন হয়নি এর ভাগ্যের। অবহেলা আর জীর্নতায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জাদুঘরটি।

জানা যায়, ১৯৭৮ সালে চলনবিলের লেখক ও গবেষক অধ্যাপক এমএ হামিদ বৃহত্তর চলনবিল অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস-ঐতিহ্য পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিজ এলাকা খুবজিপুরে গড়ে তোলেন জাদুঘরটি। চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষ ও তাদের ইতিহাস-কৃষ্টি-কালচারকে সমৃদ্ধ করাই ছিল অধ্যাপক হামিদের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য তিনি একটি ভবনসহ আট শতক জায়গা জাদুঘরের জন্য রেজিস্ট্রিও করে দেন। তিনি তার চেষ্টায় জাদুঘরকে সমৃদ্ধ করেছিলেন উপমহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শনসহ প্রাচীন তৈজসপত্র, মনসা ঘট, দুর্লভ পূরাকীর্তি, নানান ধরনের মুর্তি আর মূদ্রা, হাতে লিখা কোরআন শরিফ, কামানের গোলা, কাঠে খোদাই করা বিভিন্ন ছবি, মহারানী ভবানীর হাতে লেখা দলিল ও ডঃ মুহম্মদ শহিদুল্লার হাতে লেখা নোট বইসহ নানা দর্শনীয় জিনিস সংরক্ষণ করেন। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় বরাবরই কম হতো দর্শনার্থী।

সরকারের পত্মতত্ব অধিদপ্তর ১৯৯৪ সালে জাদুঘরটি তাদের তত্ত্বাবধানে নেয়। এর কিছুদিন পর সংস্কার আর সংরক্ষণের নামে যাদুঘরের অনেক মূল্যবান জিনিস নিয়ে যাওয়া হয় বগুড়ার মহাস্থানগড় যাদুঘরে। পরে আর সেগুলো ফিরে আসেনি চলনবিল যাদুঘরে। এরপর মুলত জাদুঘরটি সাইন বোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়ে। অধিকাংশ সময় জাদুঘরটি বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা দীল মোহাম্মদ জানান, যাদুঘরের দ্বিতল ভবনের ছাদ যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়বে। ইতিমধ্যে এক তলার বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। ভেতরে আলোর ব্যবস্থা নেই। প্রবেশ পথের কোলাপসিবল গেটটিও ভেঙ্গে গেছে।
অযত্ন-অবহেলায় ধূলো বালিতে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে দুর্লভ প্রত্নসম্পদ গুলো।

যাদুঘরের নৈশপ্রহরী আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, ‘আমি একা কি করব। শুনেছি ভবন হবে, আবার জনবল চাইলেও দেয়া হয় না। জাদুঘরটি একেবারেই মফস্বলে হওয়ায় এখানে এসে কেউ থাকতে চান না। ’

প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা মুঠোফোনে বলেন, জাদুঘরটি আধুনিকায়ণে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সেখানে জাদুঘরটির উদ্যোক্তা এমএ হামিদকে স্মরণীয় করে রাখতে তার ছবিসহ পৃথক একটি গ্যালারি থাকবে। কিছু প্রত্মতত্ত্ব সম্পদ সংরক্ষণের জন্য বগুড়ায় আনা হয়েছে। ভবন নির্মাণের পর চলনবিল যাদুঘরের মূল্যবান সামগ্রী মহাস্থানগড় থেকে সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

মতামত দিন