অডিওর তদন্ত হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশ হওয়া অডিও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না, জোর দিয়েই বলেছেন তিনি।

শুক্রবার (০১ জুন ২০১৮) রাজধানীর তেজগাঁও স্কুলের ‘তেজগাঁও ওল্ড স্টুডেন্টস সোসাইটি’ আয়োজিত ইফতার-মাহফিলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

একরামুল নিহত হন গত ২৬ মে। আর মৃত্যুর পর থেকেই তার ইয়াবা চক্রের হোতার পরিচয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আর ৩১ মে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একরামুলের স্ত্রী আশেয়া আক্তার জানান, তার স্বামী যখন নিহত হয়েছেন, সেই সময় মোবাইল ফোনে সংযুক্ত ছিলেন তিনি।

সে সময় মোবাইল ফোনে ধারণ করা ১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের হৃদয়বিদারক অডিওটি এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। উঠেছে নিন্দার ঝড়।

এই অডিওটি একরামুলের নিহতের ঘটনার হলে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধের বর্ণনাটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কারণ, দুই পক্ষে গোলাগুলি নয়, একতরফা গুলি করে হত্যার বিষয়টিই স্পষ্ট।

এটি যদি ওই ঘটনার হয়, তাহলে স্বামীকে হত্যার পুরোটা ক্ষণেরই নির্মম সাক্ষী হয়েছেন একরাম পত্নী আর তার দুই কিশোরী কন্যা।

অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। যদিও তিনি নিজে এটা শুনেননি, তারপরও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অডিওটা শুনিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কোনো অন্যায় করে থাকে তাহলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এতদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে আসছিলেন, মাদকের কারবারিরা সবাই সশস্ত্র। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুলি করলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন সন্দেহভাজন মাদক কারবারিরা।

অডিও ফাঁসের পর এই দাবি আর করা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তা তদন্ত করা হয়। একরামের ঘটনার ব্যাপারেও ঠিক একইভাবে তদন্ত করা হবে। ম্যাজিস্ট্রের যদি কোনো আলামত পেয়ে থাকেন, ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করে ইনকোয়ারি করা দরকার তাহলে ইনকোয়ারি হবে, জুডিশিয়াল তদন্ত থেকে শুরু করে যা যা দরকার সবই হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যদি এই ধরনের ঘটনা ইচ্ছা করে ঘটানো হয়ে থাকে বা যদি কেউ কোনো স্বার্থে এই ঘটনা ঘটায় বা যদি কেউ প্রলুব্ধ করে থাকে, তাহলে এর তদন্ত হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অন্যায় হলে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান আছে। সবার জন্য আইন সমান।’

তবে এই ঘটনায় চলমান মাদকবিরোধী অভিযান থামবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ এটাকে ওয়েলকাম করছে, কোথায় কোথায় মাদক ব্যবসায়ী আছে, আমাদেরকে খবর দিচ্ছেন, যেখানে জনগণ আমাদের সঙ্গে আসছে, সেখানে এই অভিযান থামার বা বন্ধ করার ইয়ে আসে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না শুনলেও অডিওটি শুনেছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘একটি অডিও প্রকাশিত হয়েছে। অডিওটা শুনেছি, এখন সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।’

একরামুলের স্ত্রী তার স্বামী নিহত হওয়ার আগে আগে তার সঙ্গে হওয়া চারটি কথোপকথনের রেকর্ড দিয়েছেন সাংবাদিকদের। এর মধ্যে পুরুষ কণ্ঠের লোকটির টিএনওর কার্যালয়ে যাওয়া পরে ‘মেজর সাহেবের ডাকে’ যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

আর রেকর্ডের মাঝামাঝি সময়ে ট্রিগার টেনে গুলি করা, ‘কুত্তার বাচ্চা’, ‘শুয়রের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ, গাড়ির সাইরেনের শব্দ আর চিৎকার চেচামেচির সব শব্দই আছে।

মতামত দিন