ইসলামী ব্যাংক নামকরা ব্যাংক এখন সেখানেও টাকা পাওয়া মুশকিল: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংকখাত খুবই স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন সরকার এখাত নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ব্যাংকখাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে উন্নয়ন কার্যক্রমও পিছিয়ে যাবে।
শনিবার (২ জুন) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আবাসন খাত নিয়ে এক আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের জন্য নানারকম সুযোগ সুবিধা দেয়া হলেও সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রাহক টাকা ব্যাংক থেকে উঠাতে গিয়ে যদি চেকের পরিমাণ টাকা না দেয়া যায়, তাহলে সেটা সমস্যা। ইসলামী ব্যাংক নামকরা ব্যাংক এখন সেখানেও টাকা পাওয়া মুশকিল। গ্রাহককে সেখানেও চেক জমা দিয়ে বসে থাকতে হয়।
তিনি বলেন, এখন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের টাকা বেসরকারি ব্যাংকে ৫০ ভাগ রাখা যায়, যেটা আগে ছিল ২৫ শতাংশ। ব্যাংক মালিকরা আশ্বাস দিয়েছে, ঋণের সূদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনবে।
অর্থনীতিতে আবাসন খাতের গুরুত্ব অনেক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে হবে। কারণ এ খাতের সঙ্গে অনেকগুলো ব্যাকোয়ার্ডলিংক (সংশ্লিষ্ট ব্যবসা) জড়িত। আর বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। সরকার এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট।
অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এবার বাজেটে (অপ্রদর্শিত) কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না।
বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় সঠিক পদ্ধতিতে প্রদর্শনের সুযোগ রাখা উচিৎ মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে এটা বন্ধ করা ঠিক হবে না। একে আমি কালো টাকা বলবো না। কারণ কোনও কারণে গ্রাহক হয়তো এ টাকার কথা জানেননি। যখন জেনেছেন তখন তিনি সেটা প্রদর্শনের সুযোগ পেতে পারে। সেটা যথাযথ নিয়মে হবে।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, একটা পরিবারে চারজন ব্যাংকের পরিচালক হতে পারবেন। সেই সুযোগ আমরা তাদেরকে দিয়েছি। সরকারি টাকার ৫০ ভাগই প্রাইভেট ব্যাংকে চলে। কেননা আমরা তাদেরকে সুযোগ -সুবিধা দিয়েছি। ব্যাংকিং খাত নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হলে সেটা অত্যন্ত সর্তকতার সঙ্গে নিতে হবে। এখানে যদি কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে দেশে যতই উন্নয়নের কথা বলি না, আমাদের ক্ষতি হবে।

মতামত দিন