ঢাকায় ১৭ দিনে কোনো ছিনতাই হয়নি: ডিএমপি কমিশনার

রমজানের ১৭তম দিনেও ঢাকার কোথাও কোনো চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই বা অজ্ঞানপার্টির তৎপরতায় কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে সেজন্য আমরা পুলিশি টহল বাড়িয়েছি। এ কারণে আগাম পদক্ষেপের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।

রোববার বিকেলে নিউমার্কেট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ক্রেতারা যাতে কেনাকাটা করতে পারেন এজন্য আমরা সমন্বিত উদ্যেগে ব্যবসা বান্ধব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, গভীর রাত একেবারে সেহরি পর্যন্ত মানুষজন কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেউ শঙ্কিত নয়।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিউমার্কেটে ক্রেতারা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কেনাকাটা করছেন। ক্রেতা, বিক্রেতা ও মার্কেটের মালিক সমিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এখানে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে, আমাদের গার্ড রয়েছে। সমন্বিত পদক্ষেপের কারণে এমনটা সম্ভব হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ঈদুল ফিতর পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

কমিশনার বলেন, ঈদ জামায়াতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের পরেও ছুটির সময়ে শপিংমল ও বাসাবাড়ির নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি থাকবে।

চলমান মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দিয়েছেন। তা বাস্তবায়নের জন্য আমরা ধারাবাহিক অভিযান করছি। ঢাকা মহানগরীর প্রত্যেকটি এলাকায় আমাদের অভিযান চলছে। একটি মাদকের আস্তানাও ঢাকায় থাকবে না। প্রত্যেকটি মাদকের আস্তানা পর্যায়ক্রমে আমরা ভেঙে গুড়িয়ে দেব। মাদক ব্যবসায়ী যে হোক, যে দলের হোক, যে পর্যায়ের হোক তাকে আমরা বিচারে সোপর্দ করব। এটি আমাদের দৃঢ় সংকল্প।

তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি এটাও আমরা বলে থাকি যে, কোনোভাবে নিরীহ, নিরপরাধ কোনো লোক এই ধরণের অভিযানে যাতে হয়রানি না হয় সেদিকটাও আমরা তীক্ষ্ম নজর রাখছি। সবাইকে আশ্বস্ত করছি এমনটি হবে না। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ী যারা, মাদকে অর্থ লগ্নি করে যারা, শেল্টার দেয় যারা তাদের কোনো রেহাই নাই। তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করা হবে।

এছাড়াও ডিএমপির ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনার বলেন, প্রতিদিন আমাদের ৬০০ পুলিশ সদস্য যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিদিন তারা রাস্তায় পানি দিয়ে ইফতার করছেন।

মতামত দিন