সুদীপ্ত হত্যা: পুলিশও হতাশ

চট্টগ্রাম: নিজ বাসার সামনে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। নৃশংস এই ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় তুলেছিল। প্রতিবাদে রাস্তায় নামে ছাত্রলীগ। হত্যাকাণ্ডের পরপর চার আসামিকে গ্রেফতার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিতে সক্ষম হয় পুলিশ।

জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বদাতাসহ বেশ কয়েকজনের নাম প্রকাশ পায়। খুনের সঙ্গে অন্তত ৩০ জন জড়িত থাকার তথ্যও পায় পুলিশ। কিন্তু জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আর একজনকেও গ্রেফতার যায়নি। এমনকি গত এক মাসে আসামিদের গ্রেফতারের আর কোনো উদ্যোগও নেয়নি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দুই মাস পর এসে কার্যত পুলিশ হাল ছেড়ে দিয়েছে।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, হাল ছেড়ে দিইনি। খুনের সঙ্গে যাদের নাম আমরা পেয়েছি তাদের কেউ এলাকায় নেই। নেটওয়ার্কের ভেতর যারা ছিল তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে পারলেও খুনের সঙ্গে জড়িত সবাই অবশ্যই অভিযোগপত্রে আসামি হবেন।

গত ৬ অক্টোবর সকালে নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসার সামনে খুন হন সুদীপ্ত বিশ্বাস। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন সুদীপ্তের বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বাবুল।

হত্যাকাণ্ডের সাতদিন পর ১৩ অক্টোবর গ্রেফতার হয় মোক্তার হোসেন নামে একজন। ১৮ অক্টোবর আদালতে খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় মোক্তার। জবানবন্দিতে মোক্তার জানায়, মাঈনউদ্দিন হানিফ ও আইনুল কাদের নিপুর নেতৃত্বে মোরশেদ আলম বাবলু, নিয়াজ মোরশেদ নিপু, চশমা রুবেল, বাপ্পি, খায়ের, বাবু, রুবেল দাশ, শামিম, জাহেদ, এম এইচ মুরাদ ও কাজী সালাউদ্দিন লাভলুসহ প্রায় ৩০ জন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল।

সাতটি সিএনজি অটোরিকশা ও তিনটি মোটরসাইকেলে করে খুনিরা সদরঘাট এলাকায় যায়। চারদিন পর ১৭ অক্টোবর রাতে আমির হোসেন ওরফে বাবু ও খাইরুল নুর ইসলাম ওরফে খায়ের নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

মতামত দিন