চাঁদপুরে আওয়ামীলীগ নেত্রী ও কলেজ অধ্যক্ষের গলাকাটা লাশ!

চাঁদপুর শহরের গল্লাক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহিন সুলতানা ফেন্সীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের ষোলঘর এলাকার ফেন্সীর নিজ বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ফেন্সী চাঁদপুর জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভােকেট জহিরুল ইসলামের স্ত্রী ও গল্লাক ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ।

পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে নিহতের স্বামী সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে আটক করেছে।

চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালী উল্লাহ ওলি জানান, ‘মরদেহ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তার মাথা জোরালো আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ওয়ালী উল্লাহ ওলি বলেন, নিহতের স্বামী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

তার ছোটো ভাই ফোরকান উদ্ধিন খান জানান, ১৯৮৬ সালে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের সাথে তার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ঝগড়া বিবাদ হতো। তারই সূত্রধরে সোমবার দিবাগত রাতে ইফতারের পর (যেকোনো সময়) তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শাহিন সুলতানা ফেন্সির ৩ মেয়ে রয়েছে।

ফরিদগঞ্জের গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সী বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়িকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯২-১৯৯৮ খ্রিঃ পর্যন্ত। তিনি জাতীয় মহিলা সংস্থা চাঁদপুর-এর চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৬-২০০১ খ্রিঃ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ইতিপূর্বে বেগম আইভী রহমান ও অধ্যাপিকা খালেদা খানম-এর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যা ছিলেন তিনি।

তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার মহিলা সম্পাদিকা ছিলেন। এছাড়া তিনি চাঁদপুর জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা মহিলা সমিতি ও চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী সমিতির আহ্বায়িকা এবং মহিলা কলেজ পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয় ও চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

মতামত দিন