নাটোরের গুরুদাসপুরে কুকুরে কামড়ানো গাভী জবাই করে বিক্রির চেষ্টা

মোঃ হাসিবুল হাসান,নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর হাটে কুকুরে কামড়ানো গাভী জবাই করে বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন নাজিরপুর হাটে হানা দিলে জবাই না করেই নাজিরপুর গ্রামের কসাই নাজু দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এসময় বাজারের ব্যবসায়ীরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণপতি রায়ের কাছে অভিযোগ করে বলেন, নাজিরপুর হাটে এমন ধরনের অসুস্থ্য পশু এর আগেও জবাই করা হয়েছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরুপ বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত নাজু কসাই নাজিরপুরের মতলেব মোল্লার ছেলে। তার অনেক সহযোগি ভাগিদার রয়েছে বলে জানা যায়।

গুরুদাসপুর পশু হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গবাদি পশুর শরীরে হাম, জলাতঙ্ক, ক্যান্সার, গুটি বসন্তসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ থাকে। এসব পশু জবাই করা এবং বিক্রি করা আইনতঃ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেনীর অসাধু মাংস ব্যবসায়ী বয়স্ক ও রোগাক্রান্ত পশুর মাংস হাটে-বাজারে কম দামের লোভ দেখিয়ে বিক্রি করছে।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু বলেন, এর আগেও হাট ইজারাদার নজরুল ইসলামের সহযোগিতা নিয়ে নাজুসহ তার সহযোগিরা এমন অসুস্থ্য অনেক পশু জবাই করেছে। নাজিরপুর হাটে পশুকে ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয় না। তিনি অভিযোগ করেন হাট ইজারাদার নজরুল ইসলাম তার পছন্দের কসাই ছাড়া অন্য কসাইকে পশু জবাই করতে দেননি। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

উপজেলা পশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. গোলাম মোস্তফা এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এমন ধরনের পশু জবাই করে যারা মাংস তৈরী করে তাদের বেশি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি থাকে। তা ছাড়াও যেসব গৃহিনীদের হাতে কাটা বা ক্ষত আছে এই মাংস তাদের সেই হাতে স্পর্শ করলে জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে। এছাড়াও এই মাংস বেশি সেদ্ধ না করে যারা এই মাংস খাবে তাদেরও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণপতি রায় বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পশুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পশুটি ইনজেকশানের মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করে দশ ফিট মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে।

মতামত দিন