‘প্রতারণার’, ‘ফাঁপা’ বাজেট: বিএনপি নেতা

আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশের আগেই একে ‘ভুয়া’, ‘লুটপাটের’ আর শোষণের বাজেট বলে সমালোচনা করে আসা বিএনপি নেতারা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পরও কথা বলেছেন একই সুরে।

নেতাদের কেউ কেউ বলেছেন, এই বাজেট ‘প্রতারণার’। কেউ বলেছেন, এটি ‘গতানুগতিক, ফাঁপা’, কেউ বলেছেন ‘ধোঁকাবাজির বাজেট।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের চেয়ে ৯৩ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে এর আকার নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক ইফতারে যোগ দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের স্বার্থে নয় দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘নির্বাচনী বছরে ভোটের আকর্ষণের জন্য এত বড় ঘাটতির একটি বিশাল বাজেট দেয়া হয়েছে। মূলত জনগণকে প্রত্যারণা করে ভোট আকর্ষণ করানোর জন্য এ বাজেট।’

‘ভোট আকর্ষণের বাজেট’

‘এটা নির্বাচনী বাজেট’- এমন কথা উল্লেখ করে মোশাররফ বলেন, ‘এটি ভোট আকর্ষণের বাজেট। জনগণের স্বার্থের বাজেট নয়। এছাড়া এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সক্ষমতাও নেই এবং প্রশাসনিক দক্ষতাও নাই। সুতরাং এটা বাস্তায়নযোগ্য নয়। লোক দেখানো ও মানুষকে প্রতারণা করার বাজেট।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা এই বাজেট প্রত্যাখান করছি। কারণ এই বাজেট জনগণের কোনো উপকারে আসবে না। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।’

প্রস্তাবিত বাজেটে এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি ধরা হলেও খন্দকার মোশাররফের দাবি, ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা।

‘এই ঘাটতি, যেটা মূল বাজেটের এক চতুর্থাংশেরও বেশি। এই ঘাটতি বাজেট কেন দেয়া হয়েছে?’- এমন প্রশ্ন রেখে মোশাররফ বলেন, ‘এখানে উন্নয়নের জন্য সেই পরিমাণ টাকা-পয়সা নেই।’

‘এই ঘাটতি পূরণের জন্য বৈদেশিক ঋণ করা হবে এবং আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়া হবে।’

‘আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়ার টার্গেট ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ তারা (সরকার) আশা করছে, ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। এগুলো ধারণা মাত্র।’

‘ব্যাংকগুলোকে যদি সরকারকে আবার ঋণ দিতে হয় তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলো প্রাইভেট সেক্টরে কোন ঋণ দিতে পারবে না।’

তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও পূরণ হওয়ার নয় বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘জনগণের পকেট থেকেই এ ঘাটতি পূরণ করতে হবে।’

করপোরেট কর কমানোরও সমালোচনা করেন খন্দকার মোশাররফ। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ী নেতারা একে স্বাগত জানিয়ে কর হার আরও কমানোর দাবি জানিয়েছেন। বলেছেন, কর কমলে বিনিয়োগ বাড়বে।

তবে মোশাররফের দাবি, এর মাধ্যমে ধনী আরও ধনী এবং গরিবকে আরো গরিব হবে।

‘সুন্দর নীল বেলুনের ভেতরে কিছু নেই’

অন্য এক ইফতারে যোগ দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট সুন্দর নীল রং এর একটি বেলুন। এটার ভেতরে কিছু নাই। এটা একটি গতানুগতিক বাজেট।’

নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মানুষকে তুষ্ট করতে এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে দাবি করেন মওদুদও।

সাবেক আইনমন্ত্রী বনে, ‘এই বাজেট আপোসকামী। ঘো‌ষিত বাজেটে ব্যাং‌কিং খাত, শেয়ারবাজার, সামাজিক খাতসহ বি‌ভিন্ন খাতে যে নৈরাজ্য চলছে তা নিরসনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়‌নি।’

‘ধোঁকাবাজির বাজেট’

অন্য এক ইফতারে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মুহিতকে ‘তথাকথিত অর্থমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটা ধোঁকাবাজি আর অনৈতিক সরকারের লুটপাট করার বাজেট।’

গত বছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৬৪ হাজার কোটি এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। দুদু বলেন, ‘বৃহৎ বাজেটের নাম করে আসলে তাদের মূল লক্ষ্য হলো লুটপাট করা। এজন্য এ বাজেট সাধারণ মানুষের কাজে আসবে এটা প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না।’

‘এই অবৈধ সরকার আট হাজার কোটি টাকার বাজেটে পদ্মাসেতু শুরু করেছিল। এখন সম্ভবত ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আসলে তাদের মূল লক্ষ্য হলো লুটপাট করা। এটা (পদ্মা সেতু) যখন শেষ হবে তখন কত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।’

মতামত দিন