৪ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে মহিউদ্দিনের কবর জেয়ারত করলেন রনি

চাঁদাবাজির মামলায় ৪ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি।বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন।

দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম (৪র্থ) আদালতের বিচারক সফি উদ্দিন এক হাজার টাকা বন্ডে এ জামিন আদেশ দেন। রনির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ খানের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় রিপোর্ট দাখিল হওয়া পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার শর্তে রনিকে জামিন দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক।

মুক্তিলাভের পর রনি শাহ আমানত শাহ (র.) এর মাজারে গিয়ে জেয়ারত করেন।পরে তিনি নগরীর শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের সমাবেশে যোগ দেন।সমাবেশ শেষে তিনি দলীয় নেতোকর্মীদের সাথে নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের কবরস্থানে গিয়ে তার কবর জেয়ারত করেন। সন্ধ্যায় তিনি নগরীর জিইসির মোড়স্থ প্রিমিয়ার ইউনির্ভাসিটিতে ইফতার পার্টিতে যোগ দেন।

গত ৭ মে হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৪ জুন সোমবার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম ওসমান গণির আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে আদালত রনির জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরন করার আদেশ দেন।

উল্লেখ্য চলতি বছরের ৩১ মার্চ চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজে ফি আদায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান ছাত্রলীগের তৎকালীন নগর সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।পরে ৪ এপ্রিল রাতে বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ জাহেদ খান ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে নগরীর চকবাজার থানায় রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

তাৎক্ষণিক সম্বর্ধনা:

এদিকে রনির কারামুক্তি উপলক্ষে বিকালে নগরীর শহীদ মিনারে ছাত্র জনতার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশের শুরুতে কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর বলেন, “রনি আজ বীরের মত ফিরে এসেছে। মিথ্যা মামলাকে জয় করে জনতার কাতারে ফিরেছে। “মিথ্যা প্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা আজ পরাজিত হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে রনি সবসময় জনতার কাতারে শামিল থাকবে এই প্রত্যাশা করি।

এরপর নুরুল আজিম রনি বলেন, “রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকে। সেই প্রতিযোগিতা হতে হয় সুন্দর-সুস্থ রাজনীতির জন্যে। গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্যে। যে মামলায় আমি গ্রেপ্তার হয়েছিলাম আদালতের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলতে চাই, থাপ্পড়ের জবাব কোনো চাঁদাবাজির মামলা হতে পারে না। সেদিন সেই একটি থাপ্পড় যদি আমি না দিতাম, তাহলে ৯৬৯ পরীক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হতো না। সেদিন তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে যে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছিল, সে ফিও ফেরত দেওয়া হতো না।”

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রনি বলেন, ’যারা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বিজ্ঞান কলেজের জামায়াতি শিক্ষককে পুঁজি করে মামলার জন্য ইন্ধন দিয়েছে, পুলিশকে বারবার করে ফোন দিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে থাপ্পড়ের বিপরীতে যেন চাঁদাবাজির মামলা নেওয়া হয়- তাদের রাজনীতি চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার আদায়ের বিরুদ্ধে রাজনীতি। তারা বারবার চট্টগ্রামের মানুষের অধিকারকে ক্ষুন্ন করেছেন।’

মতামত দিন