চট্টগ্রামে একদিনেই ৫ গুন বেশি বৃষ্টিপাত, জলজট (ভিডিও)

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বর্ষা মৌসুমে সাধারণত গড়ে ৪০-৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা চলতি বছরে বর্ষা মৌসুমে রেকর্ড।আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের এ রেকর্ড করা হয়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।

পতেঙ্গা আবওহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিলি রহমান জানান, যেখানে বর্ষা মৌসুমে সাধারণত গড়ে ৪০-৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি চলতি বর্ষা মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।

শনিবার (৯ জুন) থেকে চট্টগ্রাম নগরে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রোববার (১০ জুন) থেমে থেমে তা চলে দিনভর। কখনো ভারী বর্ষণ, আবার কখনো গুঁড়িগুঁড়ি। এই টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোকে এ সতর্কতা সংকেত দেয়া হয়েছে।

নগরীর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্বত্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজারেও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে পাহাড় ধ্বসের আশংকা দেখা দিয়েছে।পাহাড় ঢালুতে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরে যেতে শনিবার বিকালের পর থেকে মাইকিং করা হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ভারীবর্ষণের কারণে পাহাড়ধসে দুর্ঘটনা ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় রবিবার নগরীর বাটালি হিল, মিয়ার পাহাড়. একে খান ও আমিনজুট মিল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মাইকিং করে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের সরে যেতে বলা হয়েছে। যেহেতু ভারী বর্ষণ হচ্ছে, সেহেতু পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। যেকোন দুর্ঘটনা ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

সুত্রমতে নগরীর লালখান বাজার, মতিঝর্না, হামজারবাগ নবীনগর পাহাড়, বার্মা কলোনি পাহাড়, এনায়েত বাজার জামতলা বস্তি, পলোগ্রাউন্ড পাহাড়, বাটালী হিল, জিলাপী পাহাড়, নাসিরাবাদ পাহাড়, এ কে খান পাহাড়, চন্দ্রনগর পাহাড়, রউফাবাদ পাহাড়, কুসুমবাগ, জালালাবাদ, সেনানিবাস, বায়েজিদ বোস্তামী, বন গবেষনাগারের পেছনে, খুলশী, ষোলশহর, ফৌজদারহাট, কুমিরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চট্টগ্রামের অধিকাংশ পাহাড়ে বৈধ কিংবা অবৈধভাবে শতাধিক বস্তি গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় প্রায় ৫ লাখ লোক বাস করে বলে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে জানা গেছে।

এদিকে বৃষ্টির কারণে বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। বর্ষণের ফলে নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, স্টেশন রোড, রিয়াজউদ্দিন বাজার, দুই নম্বর গেটসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

মতামত দিন