রাঙামাটিতে পাহাড় ধস: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১

রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরে পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার হাতিমারায় পাহাড় ধসে চাপা পড়া আরও তিনজনের লাশ উদ্ধারের পর নিহতের এই সংখ্যা দাঁড়ায়।

সোমবার (১১ জুন) রাত ১১ টার থেকে আজ মঙ্গলবার (১২ জুন) ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নানিয়ারচর উপজেলার পৃথক ৫টি গ্রামে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-বড়পুল পাড়া এলাকায় একই পরিবারের সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৪৮), রাজ্য দেবী চাকমা (৪৫), সোনালী চাকমা (৯), রুমেল চাকমা (১২), ফুল দেবী চাকমা, ইতি চাকমা, রীতা চাকমা ও রিটেন চাকমা। বাকি তিনজনের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গ্রামগুলো হলো-নানিয়ারচর উপজেলার বুড়ীঘাট, ধরমপাশা, আমতলী, বড়পুল ও ছড়াইপাড়া গ্রাম।

নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা জানান, রাতে ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ভেঙে মাটিচাপা পড়ে বুড়িঘাট ইউনিয়নে ছয়জন ও নানিয়ারচর ইউনিয়নে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলার বড়পুল পাড়ায় দুই পরিবারের চারজন, ধর্মচরন কার্বারি পাড়ায় একই পরিবারের চারজন এবং হাতিমারা এলাকায় দুইজন মারা গেছেন। এছাড়া টানা বর্ষণে নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুরে ৪৫টি, বগাছড়িতে ৪২টি ও বুড়িঘাটে ১টি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। এসব এলাকায় মানুষের বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাহাড় ঘেষে বসবাসরত মানুষদের মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। টান বর্ষণে পাহাড় ধসের আতঙ্কে ঘর ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ।

রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জেন ড. শহীদ তালুকদার জানান, নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কয়েকজনকে উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপশ শীল জানান, প্রশাসনের একটি দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।নানিয়ারচর উপজেলার শিকলপাড়া, বড়পুল এবং হাতিমারা গ্রামে পৃথক সময়ে পাহাড় ধসে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে পাহাড় ধসের কারণে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ। রাঙামাটির কুতুকছড়ি এলাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। উদ্ধার কাজে অংশ নিতে আমাদেরও দু’টি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

গত ৪দিনের টানা বর্ষণে তছনছ হয়ে গেছে রাঙামাটি শহর। পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। ধসে পরেছে পিলার, বাড়ি-ঘরের প্লাস্টার ও সীমানা প্রাচীর। সড়কে জমেছে মাটির স্তুপ। উপড়ে পরেছে গাছ পালা। রাত থেকে দিনে অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ বিহীন ছিল রাঙামাটি। এছাড়া শহরের রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স ভবনের পাশ্ববর্তী সড়ক, সিনিয়র মাদ্রাসার পাশ্ববর্তী দেয়াল ও চম্পকনগর এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা অফিসের দেয়াল, টিটিসি, বিজিবি রোড, ডিয়ার পার্ক, ঘাগড়া, সাপছড়ি, রাঙাপানি, পুলিশ লাইনে ধসের ঘটনা ঘটেছে।

রাঙামাটি সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন জানান, গত চারদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটি জেলায় প্রায় ১২৮টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচটিরও অধিক স্থানে সড়ক ভেঙে গেছে। সড়কের কংক্রিট উঠে বড় বড় খানাখন্দ আর গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড় থেকে মাটি নেমে সড়কে স্তুপে পরিণত হয়েছে।

মতামত দিন