ফটিকছড়িতে স্মরণকালের বন্যা: পানিবন্দি লাখো মানুষ, নিহত ২

ফটিকছড়িতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এখনো লাখো মানুষ পানিবন্দি। বন্যায় এ যাবৎ স্রোতে ভেসে এক যুবক নিহত হয়েছেন। দেয়াল ধ্বসে নিহত হয়েছেন এক বৃদ্ধা। স্রোতে ভেসে নিখোঁজ এক যুবক। বন্যায় এ যাবৎ দুইজনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপকপক কুমার রায় বলেন, ‘ নিহত দুই পরিবারকে নগত ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য জেলা প্রশাসক দশটন চাউল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তা বন্টন করবেন। উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে।

ইউএনও জানান, ‘ এমন বন্যা ফটিকছড়ির ইতিহাসে অার কখনো দেখেনি ফটিকছড়িবাসী।‘

সরেজমিনে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, উপজেলার পাইন্দং, সুন্দরপুর, নাজিরহাট পৌরসভা, রোসাংগিরী, সুয়াবিল, লেলাং,কাঞ্চননগর, সমিতিরহাট, অাব্দুল্লাহপুরে বন্যার পানির পরিমান ছিল বেশি। এখনো বহুঘরের ভেতর কোমর পরিমান পানি। নাজিরহাট -কাজিরহাট সড়কে এক বুক পরিমান পানি। সেখানে নৌকাযোগে চলাচল করছে। পাইন্দং পেলাগাজী হতে কাজিরহাট সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। এছাড়া গ্রামীন জনপদের বহু সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নাজিরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখনো পানি বন্দি। তবে বাজার থেকে পানি সরে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভাধীন পূর্ব ফরহাদাবাদ শমসুর দোকান সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার বিকালে স্রোতে ভেসে যান তৈয়ব (২৮) নামক এক যুবক। নিখোঁজের প্রায় ১৮ ঘন্টা পর অাজ দুপুরে স্থানীয়রা জাল দিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত নূর হোসেনের পুত্র। পেশায় রাজমিস্ত্রী। তার চার বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

এদিকে ঘরের দেয়াল ধ্বসে নিহত হয়েছেন ওয়াজ খাতুন(৮০) নামক এক বৃদ্ধা। তিনি উপজেলার শাহনগর হামিদ অালী মিস্ত্রী বাড়ির মৃত শমসুল হকের স্ত্রী।নাজিরহাট পৌরসভাধীন পূর্ব ফরহাদাবাদ গ্রামের সুমন নাথ (২৪) নামক এক যুবক গতকাল স্রোতে ভেসে গেলেও এখনো তার খোঁজ মেলেনি।

এদিকে বৃষ্টি থামায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো লাখো মানুষ পানিবন্দি। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক গতকাল বন্ধ থাকলেও অাজ সকাল থেকে সচল হয়েছে। তবে বেশ কিছু জায়গায় এখনো মহাসড়কের উপর পানি চলাচল করতে দেখা গেছে।

নাজিরহাট বাজারের হালদার উপর নির্মিত বৃটিশ অামলের পুরাতন সেতটিু মাঝ বরাবর ফাটল দেখা দিয়েছে, সেতুটির প্রায় বিশফুট অংশের মধ্যে প্রায় তিনফুট নিচের দিকে ধেবে গেছে। যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নাজিরহাট পৌর মেয়র।

উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধিদের বন্যা কবলিতদের সহযোগিতা করার অাহবান জানিয়েছেন। সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দিয়ে অাশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে চালু করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

 

মতামত দিন