জ্যাক মা এর কয়েকটি উক্তি যা যুব সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা

ক্যারিয়ার ডেস্ক: জনপ্রিয় ট্রেডিং সাইট alibaba.com এর কর্ণধার,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং চীনা কোটিপতি জ্যাক মা বিশ্বের সেরা ধনীদের একজন। তার জীবন ছিল সংগ্রামে ভরপুর। জ্যাক মাকে না চিনলেও alibaba.com চিনেনা, এরকম মানুষ কম পাওয়া যাবে। এ জ্যাক মা এখনকার অবস্থানে কখনও ছিলেননা। উনার আজকের এ উথ্থানটাই হয়েছে alibaba.com এর মাধ্যমে। যখন উনি এ ওয়েবসাইট নিয়ে ভাবেন, তখন চীনের ইন্টারনেট এত বেশি ব্যবহৃত হত না। সেই দেশে বসে এধরনের ওয়েবসাইটের কল্পনা করাটাও আসলে তখন অনেক রিস্কের ছিল।জ্যাক মা এর জীবন যুব সমাজের জন্য এক অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, নিজের পরিবারের দরিদ্রতা নিয়ে আফসোস না করে, নিজের দরিদ্রতার দোহাই দিয়ে অন্যের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা গ্রহনের চেষ্টা না করে, নিজেকে প্রস্তুত করুন । কঠিন পৃথিবীতে নিজের অবস্থান প্রস্তুত করুন। আর এজন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম, সাধনা, অনুপ্রেরণা। পরিশ্রমকারী ব্যক্তি কখনও ব্যর্থ হয়না, কোন না কোন রাস্তা তার জন্য খুলে যায় একদিন। আসলে বিল গেটস থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যক্তিরা আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরেছেন, শুধুমাত্র নিজেদের পরিশ্রমের কারনে।

ট্রেডিং সাইট alibaba.com খোলার আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ২৫জন বন্ধুর সাথে আগে বসে মিটিং করেন। মজার বিষয় হচ্ছে ২৫জনের মধ্যে ২৪জনই এধরনের অবাস্তব স্বপ্নের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করেন। শুধু একজন তাকে তার লক্ষে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।জ্যাক মা নিজেও তার লক্ষ্যের দিকে স্থীর থাকে, এবং প্রচুর পরিশ্রম শুরু করে দেন। উনি বলেন, আজ আলিবাবা আমাকে এই পর্যায়ে আনেনি আমি আলিবাবাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আপনাকে কেউই হাতে ধরিয়ে দিবেনা কিছু আপনার হাতে ধরে নেয়া জানতে হবে চেষ্টা করতে হবে। নিজের যুবক সময় কাজ করার সময়কে প্রকৃত কাজে লাগাতে হবে। কোটিপতি জ্যাক মার গল্পটাও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ।

জ্যাক মা যুব সমাজের জন্য কয়েকটি উক্তি করেন, যেগুলো অনুসরনীয় –

  • আপনার দরিদ্র হয়ে জন্মানোটা দোষের না কিন্তু দরিদ্র হয়ে থাকাটাই দোষের।
  • আপনি যদি একটি দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়ে নিজের ৩৫ বছর বয়সেও সেই দরিদ্রই থাকেন তবে দরিদ্র হয়ে থাকাটা আপনার কপালের দোষ নয়, আপনি এটি প্রত্যাশা করেন। কারন আপনি আপনার যুবক বয়সকে কোন কাজে লাগাতে পারেন নি, আপনি সম্পূর্ণ ভাবে সময়টা নষ্ট করে দিয়েছেন।
  • জীবনে অনেক উপরে উঠতে হলে ২৫ বছর থেকেই শুরু করুন, নিজে পরিকল্পনা করুন, তাই করুন যা আপনি উপভোগ করতে জানেন।
  • এগিয়ে যাও তা না হলে ঘরে ফিরে যাও।
  • গরীব কারন আপনার দূরদর্শিতার অভাব।
  • আপনার দারিদ্রতা কারন আপনি আপনার ভীরুতাকে জয় করতে পারেন নি।
  • গরীব কারন আপনি আপনার সর্বচ্চো ক্ষমতা, ব্যবহার করতে পারেন নি।
  • আপনি দরিদ্র তাই সবাই আফসোস করবে কেওই আপনাকে সচ্ছল বানিয়ে দিবেনা।
  • যখন আপনার বাবা মায়ের চিকিৎসা ব্যয় আপনি মিটাতে পারবেন না কেউই আপনাকে তা দিবেন না।
  • আপনি নিজের ৩৫ বছর বয়সেও যখন কোন উন্নতি করতে পারবেন না সবাই আপনাকে উপহাস ঠিকি করবে কিন্তু কেউই আপনাকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবেনা।
  • নিজের জন্য নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। চিন্তা করতে হবে, ভাবনার সাথে প্রয়গিক বাস্তবতার সন্নিবেসন ঘটাতে হবে। ম্যাক মা আরো বলেন, অনেকেই হতাশ হয়ে যায়,

কেউ যদি নিজের জীবনে উন্নতি করতে চায় তবে তাকে ৪টি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। এগুলো হচ্ছে।

১) সুযোগের প্রতি ক্ষীণদৃষ্টি দেয়া এবং তার সৎ ব্যবহার করা।

২) সুযোগ খুঁজতে থাকা, কখন আসবে তা আপনি জানেন না তাই সচেষ্ট থাকা।

৩) যেকোনো জিনিস বুঝতে জানা, বুঝার চেষ্টা করা।

৪) হেরে যেতে না জানা, যদি হেরে যেতে হয় তবে এতো জলদি কেনো? লেগে থাকতে জানতে হবে।

উপরের সব কিছু যে অনুসরন করবে সে কখনোই দরিদ্র হয়ে থাকবেনা। আর যে নিজের ৩৫ বছর বয়সেও দরিদ্র থাকে তা হলে সে সেটা প্রত্যাশাই করে। আপনি দরিদ্র কারন আপনার কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই।

মতামত দিন