`পতেঙ্গার বিজয়নগরে ২০ বছরেও ভূমি রেজিস্ট্রি পায়নি ৫ শতাধিক পরিবার’

চট্টগ্রামের নতুন শাহ আমানত বিমানবন্দর সম্প্রসারণে অধিগ্রহণকৃত জায়গার ভুমি মালিকদের পুনর্বাসনের জন্য দেয়া বসতভিটা ২০ বছরেও রেজিস্ট্রি পায়নি পতেঙ্গা থানাধীন বিজয়নগরের ৫ শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ৬ জানুয়ারি, শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পতেঙ্গার বিজয় নগর পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজয় নগর পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহার উদ্দিন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভূমি বরাদ্দপত্র ও রেজিস্ট্রি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৯২-৯৩ সলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ শাহ আমানত বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তৎকালীন পোড়া পাড়ার (বর্তমান সম্প্রসারণকৃত বিমানবন্দর) সকল বাসিন্দাদের তাদের পৈত্রিক প্রায় ১০৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বসতঘর ও গাছপালার ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলেও ভিটার মূল্য গ্রহণ করেননি। সে অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ১৯৯৮ সালে বিজয়নগর এলাকায় পূর্ণবাসন করা হয়। তন্মধ্যে ২৮ একর ভূমি নিয়ে বিজয় নগর গড়ে তোলা হয়। প্রায় ১৪ একর জায়গায় গড়ে উঠে বসত ভিটা।

এরপর থেকে বিজয়নগরে পাওয়া জায়গাতে বসতঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছে পরিবারগুলো। এসব বসতভিটার কিছু পরিবার বরাদ্দপত্র ও রেজিস্ট্রিশন পেলেও শর্ত মোতাবেক বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দখল পেলেও এখনো সরকারি বরাদ্দপত্র ও রেজিস্ট্রি দেয়নি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রি না পাওয়ার কারণে বরাদ্দপত্র পাওয়া ব্যক্তি মারা যাওয়ার প্রেক্ষিতে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে করে পতেঙ্গার পোড়াপাড়ার নিজেদের মৌড়শী বসতভিটা হারিয়ে বিজয় নগরে একপ্রকার উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাহার উদ্দিন বলেন, ‘বিজয় নগর এলাকায় ২৯৩টি প্লট ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু অনেককে বরাদ্দপত্র ও রেজিস্ট্রি হস্তান্তর করলেও বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এখনো রেজিস্ট্রি ও বরাদ্দপত্র দেয়া হয়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। তারা আজকে দেবেন, কালকে দেবেন করে টালবাহানা করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এক প্রকার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট মো. জানে আলম, সংগঠনের সহ-সভাপতি ইউনুচ মাস্টার, স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জাফর আহমদ, ইউনুছ ড্রাইভার, গোলাম হোসেন, ফজল করিম, জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইউচুপ সী-ম্যান, মো. হানিফ প্রমুখ।

মতামত দিন