পরিকল্পিত নাশকতা বলে সন্দেহ মহিউদ্দিন পুত্র নওফেলের

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে মেজবান খেতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘পরিকল্পিত নাশকতার’ সন্দেহ করছেন তার ছেলে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সোমবার রাতে রীমা কমিউনিটি সেন্টারের দুর্ঘটনা বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে এ শঙ্কার কথা জানান।

মেয়রপুত্র নওফেল বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে নাশকতার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কেউ পরিকল্পিত ভাবেও এ ঘটনা ঘটাতে পারেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন হাতে পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে কী ঘটেছে।’

কুলখানিতে পদদলিত হয়ে দশ জনের মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘রীমা কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে নগরীর আরও ১৩টি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের আয়োজন করেছিলাম। ওইসব সেন্টারের কোথাও সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়নি। এখানে কেন এ বিশৃঙ্খলা হলো আমরা এখনও নিশ্চিত নই। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি, যারা মারা গেছেন তারা পদদলিত হয়ে মারা যাননি। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে তারা মারা গেছেন। কমিউনিটি সেন্টারের গেট খুলে দিলে কেউ পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তারা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান, এ কারণে তাদের মৃত্যু হয়।’

শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কিনা জানতে চাইলে নওফেল বলেন, ‘প্রতিটি কমিউনিটি সেন্টারে আমাদের এক থেকে দেড়শ স্বেচ্ছাসেবক ছিল। এ ঘটনায় আমাদের একজন স্বেচ্ছাসেবকও মারা গেছেন। পুলিশও সেখানে ছিল, সুতরাং শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল। এটাই চিন্তার বিষয়। আমরা ঘটনা পেছনের কারণ জানার চেষ্টা করছি।’

আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছিলাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরপরও এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন নেতা নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন থেকেও তাদের সহযোগিতা করা হবে। আমরা আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। তাদের সবার তো আর্থিক অবস্থা একরকম নয়, তাই আমরা হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সহযোগিতা করবো।’

 

মতামত দিন