চট্টগ্রামে মহিউদ্দিনের কুলখানীতে যে কারনে মৃত্যুর মিছিল

নিউজ ডেস্ক: এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে দশজনের মৃত্যুর ঘটনায় নানা অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়। ১১টি কমিউনিউটি সেন্টারের মধ্যে কেবল রিমা কমিউনিটি সেন্টারে কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটল? চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবার বাহার মর্মান্তিক এই ঘটনার জন্য কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশমুখ ঢালু ও স্যাঁতসেঁতে থাকাকে দুষেছেন।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বললেন ভিন্ন কথা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিমা কমিউনিটি সেন্টারে প্রবেশের দুটো গেট রয়েছে। মূল সড়ক থেকে দু’দফায় ঢালু পথ অতিক্রম করে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে প্রবেশ করতে হয়।

তারা জানান, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পেছনের গেট দিয়ে কিছু লোক ঢোকে এবং খেয়েদেয়ে তারা বেরিয়েও যায়। ঘটনার আগ মুহূর্তেও কিছু ভিআইপি লোককে পেছনের গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছিল। এতে করে সামনের গেটে আগতদের মধ্যে হা-হুতাশ দেখা দেয়। তারা মনে করে, হয়তো খাবার ফুরিয়ে যেতে পারে। তখনই শুরু হয় তাড়াহুড়ো। সবাই একসঙ্গে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে থাকে। এতে করে প্রবেশ পথে চাপ আরও বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে সামনের কয়েকজন পড়ে যান। তাদের শরীরের ওপর দিয়ে অন্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে। ফলে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।

প্রবেশমুখ ঢালু, স্যাঁতসেঁতে

তবে ভিন্ন দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবার বাহার।

তিনি বলেন, ‘এ দুর্ঘটনার নেপথ্যে আপাতত আমরা অন্য কোনো কারণ দেখছি না। প্রতিটি কমিউনিটি সেন্টারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। শৃঙ্খলার জন্যও নির্ধারিত লোকজন ছিল। কুলখানি বলে কারো প্রতি কঠিন আচরণও করা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘রিমা কমিউনিটি সেন্টারটি পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থিত। আশে পাশেও রয়েছে পাহাড়ি এলাকা। কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশমুখ নিচের দিকে ঢালু। প্রবেশ পথে রয়েছে ইট বিছানো। গাছের ছায়ার কারণে জায়গাটা অনেকটা স্যাঁতসেঁতে। পেছন থেকে অধিক মানুষের চাপে সামনের কয়েকজন পা পিছলে মাটিতে পড়ে যায়। তাদের উপর মানুষের ঢল নামলে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু ঘটে।’

জেলা প্রশাসক যা বললেন

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মানুষের বিশৃঙ্খলার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তারপরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘১১টি কমিউনিটি সেন্টারের মধ্যে সংখ্যালঘুদের জন্য ছিল কেবল ২টি কমিউনিটি সেন্টার। মানুষ অনুপাতে সংখ্যালঘুদের জন্য ২টি কমিউনিটি সেন্টার পর্যাপ্ত ছিল না।’

‘রিমা কমিউনিটি সেন্টারের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সেখানে ভিড় ছিল অন্য কমিউনিটি সেন্টারের চেয়ে বেশি। আবার গরুর মাংস পরিহার করে এমন মুসলিমদের ভিড়ও ছিল সেখানে,’ যোগ করেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশে লাগানো হওয়ায় এই কমিউনিটি সেন্টারের সামনে সবসময় ভয়াবহ যানজট লেগে থাকে। যে কারণে প্রবেশ এবং বাহির হতে নানা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। মূলত খাবার ফুরিয়ে যাবার আশঙ্কার হুড়োহুড়ির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের ঘনিষ্টজন খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্খিত মর্মান্তিক ঘটনা। কুলখানিতে আসা মানুষের বিশৃঙ্খলার কারণে মূলত এ ঘটনা ঘটেছে। তারপরও আমরা সব কিছু খতিয়ে দেখছি। এ ক্ষেত্রে কারো কোন অবহেলা ছিল কিনা তাও দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিবারকে আমরা নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাবো। আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতা থাকবে।

 

মতামত দিন