মানুষ যেন হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয়, ডিসিদের প্রধানমন্ত্রী

জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের প্রতি আপনাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন। সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

রোববার (১৪ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯’ উদ্বোধনকালে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়নের জন্য সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেছেন, সার্বিক উন্নয়নে সুশাসন একান্তভাবে দরকার।

তিনি বলেন, উন্নয়নের ছোঁয়াটা যাতে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের উন্নয়ন শুধু মুষ্টিমেয় লোকের জন্য নয়। আমাদের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা একেবারে গ্রাম পর্যন্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যেন মানুষের জীবনমান উন্নত হয়, দারিদ্র্যসীমা থেকে তারা উঠে আসতে পারে, সবার ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, জীবনযাত্রা আরও উন্নত হয়, গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রবণতাও যেন কমে যায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের সব পরিকল্পনা। এক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন আপনারা।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হলে আমি মনে করি, স্থানীয় সরকার আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা একান্ত প্রয়োজন। সবার সেভাবেই কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বেশি হলেও তা বোঝা নয়। জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করা গেলে তারাই হবে উন্নয়নের মূল শক্তি। তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ যেন গৃহহীন ও ভূমিহীন না থাকে সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় আমেরিকা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বা বটমলেস বাস্কেট বলতো। সেই আমেরিকাতে দারিদ্র্যের হার শতকরা ১৮ ভাগ। বর্তমানে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগ।

তিনি বলেন, আরও অন্তত ৪ ভাগ দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আমেরিকার চেয়ে দারিদ্র্যের হার কমাতে হবে। এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে ডিসিদের কাজ করার জন্য ওয়াদাবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এসময় জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন বিষয়ে ৩০টি নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসাইন, শেরপুর জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।

মতামত দিন