নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন অধীনে নতুন নির্বাচন দিতে হবে-মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামীলীগ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে, তাই এখন নির্বাচনে জনগনের আস্থা নেই। বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দিয়ে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মীর্জা ফখরুল।

তিনি আজ শনিবার (২০ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর নূর আহমদ সড়কে বিএনপির দলীয় কার্যৃালয়ের সামনের সড়কে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও  দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন খালেদা জিয়া আওয়ামীলীগ বারবার গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরাচারিভাবে দেশ চালাচ্ছে তাই তারা গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছেন।

বন্যাদুগর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের গ্রামে গ্রামে যেতে ছড়িয়ে পড়তে হবে। জনগণকে নিয়ে গণঅভূত্থান ঘটাতে হবে। জনগণের কাছে গিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

গণতন্ত্র ও জনগণকে আওয়ামী লীগ ভয় পায় বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়। জনগণের ভোট ছাড়ায় আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। আমরা ভুলিনি। ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর একইভাবে কার্যক্রম শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ।

তখনও জনগণের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছিল। সে সময়ও গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। বাহিনী তৈরী করে হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। আজকেও একইভাবে, একই কায়দায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগে বাজেট দেওয়া হয়েছে, এটা গরীবদের আরো গরীব বানানোর বাজেট। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে, বাজেটের পর প্রত্যেকটা জিনিসের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও একজন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ বলেছেন, বিদেশী ঋণের ফাঁদে আটকে পড়তে যাচ্ছে দেশ।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে লুট করে শেষ করে দিয়েছে। একটা ব্যাংক নেই, যেটা সুষ্ঠু অবস্থায় আছে। শেয়ারবাজার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,  ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবেদীন ফারুক, মো. শাহজাহান,  দক্ষিণ জেলা সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, উত্তর জেলা সভাপতি গিয়াস কাদের চৌধুরী, গোলাম আকবর খন্দকার , শফিউল বারী বাবু,  আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, এসএম ফজলুল হক, আবু সুফিয়ান, আবুল হাশেম বক্করসহ উত্তর দক্ষিণ জেলা ও মহানগরীর নেতারা বক্তব্য রাখেন।

পুলিশের দেয়া ২৭ শর্তের বেড়াজালে থেকেই বর্তমান সরকারের মেয়াদে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো সমাবেশ করলো বিএনপি।কয়েক দফায় স্থান পরিবর্তনের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যৃালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পায় বিএনপি।

মতামত দিন