ছেলেধরা সন্দেহে যেভাবে রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় (ভিডিও)

রাজধানীর ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)।

শনিবার (২০ জুলাই ) সকালে উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তি করার জন্য স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েছেলেন তিনি। আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

রেনুকে পিটিয়ে হত্যার নৃশংস ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহূর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান , তাসলিমা বেগম রেনুর এক ভাই ও পাঁচ বোন। মাস্টার্স শেষ করা রেনু সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। গত দুই বছর তিনি প্রাইভেট পড়াতেন। পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় দুই বছর আগে স্বামীর সঙ্গে রেনুর ডিভোর্স হয়। তাদের সংসারে তাসফিক আল মাহি (১১) ও তাসলিমা তুবা (৪) নামের দুই সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর ছেলে বাবার সঙ্গে থাকে। আর মেয়ে মায়ের কাছে থাকতো। ল²ীপুর শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে নিহত রেনুর গ্রামের বাড়ি রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামে।

স্বজনরা জানান , মেয়েকে ভর্তির জন্য স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনু (৪০) আগামী জানুয়ারি মাসে আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে তার একমাত্র ভাই আলী আজগর ২৩ বছর ধরে বসবাস করছেন।

আমেরিকা যেতে রেনু সব প্রস্তুতি গুছিয়ে নিয়েছেন। মারা যাওয়ার দিন সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিনি ফটোকপি করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে বের হন। ওই দিন ছোট মেয়েকে খালার কাছে রেখে যান।

মতামত দিন