হঠাৎ কেন একদিনের ব্যবধানে বান্দরবানে ২ আ.লীগ নেতার প্রাণহরণ! (ভিডিও)

বিশেষ প্রতিনিধি: তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে অনেকটা শান্ত বান্দরবান হঠাৎ করেই যেন অশান্ত হয়ে উঠলো। বান্দরবানের দুটি উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে দুই আওয়ামী লীগ নেতার প্রাণহরণ করেছে দুবৃত্তরা।একটি খুনের পেছনে জেএসএস বা জনসংহতি সমিতি দায়ী থাকার কথা শোনা গেলেও অপর খুনটি কেন হলো, কারা করলো তা নিয়ে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা।তাছাড়া হঠাৎ করেই বান্দরবানে আওয়ামী লীগের দুই নেতা খুনের ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতির রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই দুবৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে লামার সরই ইউনিয় আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর বড় ছেলে মো. আলমগীরকে।

বান্দরবান থেকে প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় সরই ইউনিয়নের পূর্ব হাসনাভিটা এলাকার ফাতেমা দরগাহ নামক স্থানে আলমগীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন মানে সোমবার সকালে রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মং মং মারমাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।সদর উপজেলার রুলাইং এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা ও সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, সংবাদ পাওয়া মাত্র আমরা ঘটনাস্থলে পৌছেছি।ঘটনাস্থলে সরই পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছে।

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উল আলম মুঠোফোনে বলেন, নিহত আওয়ামীলীগ নেতা আলমগীর তার আমির হামজা পাড়াস্থ মাছের প্রজেক্ট ও বাগান থেকে বাড়িতে ফিরছিল। যাত্রা পথে দুর্বৃত্তরা তাকে হামলা চালিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে আমরা আরেকটি বাজাজ এপাসি মডেলের সাদা মোটর সাইকেল পেয়েছি। যে গাড়িটি হত্যাকারীদের হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
মং মং মারমা দীর্ঘদিন ধরে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা, জেএসএস এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।তবে আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীরকে কারা খুনকরেছে তা জানতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মং মং থোয়াই মারমাকে হত্যা এবং গুম-খুনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রোয়াংছড়ি উপজেলা আ.লীগের ডাকা শান্তিপুণ আধাবেলা হরতাল পালিত হয়েছে।

হরতাল চলাকালে উপজেলা সদর থেকে দুরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি বন্ধ রয়েছে উপজেলার অভ্যন্তরিন সকল রুটে অটোরিক্সা, মোটর সাইকেলসহ সব ধরনের যানচলাচল। এছাড়াও রোয়াংছড়ি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সাথেও সব ধরনের যান চলাচল রয়েছে বন্ধ ।

এদিকে হরতালের কারণে জেলা সদর থেকেও উপজেলার উদ্যেশে কোন ধরনের যানবাহন ছেড়ে যায়নি। সকাল থেকেই উপজেলা আওয়ামী লীগ’সহ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা উপজেলার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়,এতে সাধারণ মানুষ দূর্ভোগ পড়ে।

মতামত দিন