লামা উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনে সিলেকশন চায় না নেতাকর্মীরা

লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা:
আগামী শনিবার (২৭ জুলাই) দীর্ঘদিন পরে হতে যাচ্ছে লামা উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। আওয়ামীলীগের এ সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। কে পেতে যাচ্ছেন আগামী দিনে আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এর নেতৃত্ব ? এই নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝেও চলছে অনেক হিসেব নিকেষ।

হাতেগনা কয়েকজন নেতা সিলেকশন চাইলেও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা চান ইলেকশনের মাধ্যমে যোগ্য নেতা নির্বাচন করা হোক। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা ও উদ্বোধক হিসেবে সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সম্মেলনে সভাপতি করবেন লামা উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মাহাবুবুর রহমান। উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ হবে বএমনটাই আশা করছেন আয়োজকরা।

জানা যায়, ২০১২ সালে সর্বশেষ বান্দরবানের লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে সদ্য প্রয়াত আলহাজ¦ মোহাম্মদ ইসমাইলকে সভাপতি ও বাথোয়াইচিং মার্মাকে সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ইতিমধ্যে সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইলসহ ৩ জন সদস্য মারা গেছেন।

নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন না হওয়ায় কমিটির অনেক ত্যাগী সদস্যরা নিক্রিয় হয়ে পড়েন। অনেকে মনে করছেন সাবেক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল মারা যাওয়ার পর উপজেলা আওয়ামীলীগ অকেকটাই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে ইলেকশন নয়, সিলেকশনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করা হবে; এমন আভাসে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এ কারণে দীর্ঘদিন পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চললেও নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন একটা উৎসাহ দেখা যাচ্ছেনা। তবে নতুন নেতৃত্ব পেতে সম্মেলনকে ঘিরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থীরা।

দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, সম্মেলন সফল ও সম্পাদন করতে ৯ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহবায়কের দায়িত্বে আছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল ও সদস্য সচিব লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম। সম্মেলনে উপজেলার ১টি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়ন, ইয়াংছা ইউনিট কমিটি থেকে ৩১জন করে মোট ২৭৯জন ও উপজেলার কমিটির ৬৭জন সহ সর্বমোট ৩৪৬জন কাউন্সিলর তাদের মতামত প্রদান করবেন।

সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মাহাবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বাথোয়াইচিং মার্মা, সহ-সভাপতি আক্তার কামাল, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল কাদের, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী জাহানারা বেগম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত সুপারভাইজার প্রসন্ন কান্তি ভট্টাচার্য্য।

সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন কোম্পানী, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বিজয় আইচ, সাংগঠনিক সম্পাদক ছাচিং প্রু মার্মা ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কৃষকলীগের সভাপতি জাপান বড়ুয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন সেলিম, আজিজনগর আওয়ামীলীগের সহ প্রচার সম্পাদক শামসুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফরিদ উদ্দিন ও তাঁতী লীগের উপজেলা সভাপতি মো. নাছির উদ্দিনের নাম শুনা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, কাউন্সিলের মাধম্যে নেতৃত্বের পরিবর্তন হোক এটাই আমাদের চাওয়া পাওয়া। নেতৃত্বে পরিবর্তন আসলে ত্যাগীরা রাগ অভিমান ভেঙ্গে আবারো সক্রিয় হয়ে দলের জন্য কাজ করবেন।

লামা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, অতীতে যারা মাঠে ছিলেন, বর্তমানেও কাজ করছেন। লড়াই সংগ্রাম করে দুর্দিনে দলকে সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচিত হোক এটাই চান তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সমষ্টিগত ভাবে কমিটি গঠন করলে দলের জন্য মঙ্গল হবে বলে জানান তিনি।

বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মাহাবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময়ের পর দলের সম্মেলন হচ্ছে। তাই আমিও চাই এ সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতারা নেতৃত্বে আসুক।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মোস্তফা জামাল জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্মেলন সম্পন্নের সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ দলের জন্য যেটা ভালো মনে করে সিদ্ধান্ত দিবেন তা সবাই মেনে নেবেন বলে আশা করি। আশা করি সম্মেলন সুষ্ঠ, সুন্দর ও শান্তিপুর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারবো। সকলের সহযোগিতা কাম্য।

মতামত দিন