টমটমের ধাক্কায় আহত মা-শিশু, খোঁজ নিচ্ছেনা কেউ !

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
লামা পৌরসভায় ত্রাণের চাউল নিতে এসে বেপরোয়া টমটমের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন মা নুরনাহার বেগম (৩০) ও শিশু মো. শহিদ সোহেল (৫)। বৃহস্পতিবার (০৮ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় মধুঝিরিস্থ লামা পৌরসভার কার্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নুরনাহার বেগম লামা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড পশ্চিম রাজবাড়ী এলাকার মৃত মো. রিপনের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের উদ্ধার করে লামা হাসপাতালে নিয়ে আসে। ডাক্তার দুইজনকে ভর্তি দেয়। নুরনাহার বেগমের স্বামী নেই। এদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে টমটম গাড়ির কাউকে দেখা যাচ্ছেনা। দরিদ্র অসহায় মা-ছেলের চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আহত নুরনাহার বলেন, হাত দিয়ে ইশারা দেয়ার পরেও টমটমটি এসে আমাদের ধাক্কা দেয়। আমি দিনে এনে দিনে খাই। এখন আমরা কিভাবে চিকিৎসা করব ? গাড়ির লোকজন সবাই পালিয়ে গেছে। হাসপাতাল থেকে কিছু ঔষুধ দিয়েছে। টাকার না থাকায় বাকী ঔষুধ কিনতে পারছিনা।

প্রত্যক্ষদশী মো. করিম বলেন, আর কত মানুষ পঙ্গু ও মারা গেলে গাড়ি চালকদের জ্ঞানবোধ জন্ম হবে ? গাড়ি চালকদের খামখেয়ালীর কারণে দুর্ঘটনা হবে আর কষ্ট পাবে সাধারণ মানুষ। দোষী টমটম চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক এবং আহতদের চিকিৎসার বন্দোবস্ত হোক।

লামা টমটম মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফরিদ কে এই বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

লামা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, শিশু মো. শহিদ সোহেলের অবস্থা ভাল না। তার মাথা ও হাতে এক্সরে করার প্রয়োজন।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, ঘটনা শুনেছি। পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ মাসে লামা হাসপাতালে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ১৮৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ভর্তি হয়েছে। যা মধ্যে মারা গেছে ২ জন ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছে ১৩ জন।

মতামত দিন