চট্টগ্রামে রাস্তায় চামড়া ফেলে গেল ব্যবসায়ীরা: সরালো চসিক

পাইকাররা চামড়া না কেনায় ধস নেমেছে চট্টগ্রামের চামড়া বাজারে। চট্টগ্রামে বাধ্য হয়ে এক লাখের বেশি চামড়া সড়কে ফেলে চলে গেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে এ দরপতন। এ অবস্থায় লবণের চাহিদা বাড়ায় বস্তাপ্রতি আড়াই শ’ থেকে তিনশ’ টাকা বাড়িয়েছে মিল মালিকরা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ২০০ শ্রমিক ও ৮টি পে লোডারের সাহায্যে ৩২টি ট্রাকে ৯০ ট্রিপে এক লাখ পচা চামড়া অপসারণ করা হয়।

নগরের কাঁচা চামড়ার প্রধান বাজার হামজারবাগ, আতুরার ডিপোসহ বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পচা চামড়াগুলো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রধান শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী যিশু।

চট্টগ্রামে কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৫ লাখ তা যেমন পূরণ হয়নি তেমনি প্রকৃত মূল্য পায়নি ব্যবসায়ীরা। যে কারণে হাজার হাজার পিস চামড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নষ্ট হয়ে গেছে। অপরদিকে রাস্তায় চামড়া ফেলে প্রতিবাদ করছে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী। নায্যমূল্য না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা।

স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পশু কোরবানির ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে লবন দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু এবার নানা জটিলতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও চামড়া সংরক্ষণ করা যায়নি। যে কারণে অন্তত ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি আড়তদারদের। এমন অবস্থায় চামড়া ব্যবসায়ীরা দায়ি করছেন ঢাকার ব্যবসায়ীদের। বকেয়া ৫০ কোটি টাকা না পাওয়ায় তারা চামড়া কিনতে পারেননি বলে দাবি তাদের।

এদিকে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ কোরবানির পরদিন থেকে বুধবার (১৪ আগস্ট) পর্যন্ত আতুরার ডিপো-হামজারবাগ এলাকা থেকে এক লাখ, বহদ্দারহাট থেকে ৯ হাজার ও আগ্রাবাদ থেকে ১২ হাজারের বেশি পচা চামড়া নগরের দুইটি আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, চামড়ার সরকার নির্ধারিত দামও না পাওয়ার পেছনে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্রের দূরভিসন্ধি আছে কি না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় কোরবানিদাতারা হতাশ, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব, দেশ বঞ্চিত হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে।

মতামত দিন