প্রথম কোন জেলা প্রশাসক দেখলো মনাই ত্রিপুরা পাড়ার মানুষ

দুর্গম মনাই ত্রিপুরা পাড়ার শিশুরা জানে না ডিসি বা জেলা প্রশাসক মানে কি? তিনি দেখতেই বা কেমন? এই প্রথমবারের মতো সেখানে আসা চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনকে দেখতে তাই উৎসবের আমেজ ছিল দূর্গম এই জনবসতিতে।চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত হলেও দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় হওয়ায় এতোদিন প্রশাসনের কোন গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তির পদচারনা হয়নি এখানে।

প্রথম কোন জেলা প্রশাসক হিসেবে কারো পদার্পণ ঘটলো উক্ত জনবসতিতে। শনিবার দুপুরে মনাই ত্রিপুরা পাড়ায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার মান উন্নয়নে ” জেলা প্রশাসক প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি- ২০১৯” প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন হাটহাজারী কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন,” একশো বছরের পুরনো দূর্গম এ জনবসতিকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।” মনাই ত্রিপুরা পাড়া আর অবহেলিত থাকবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন আগামী তিন- চার বছরের মধ্যে এই ক্ষুদ্র- নৃগোষ্ঠীর মানুষ শহরের মানুষের মতোই জীবন- যাপনের সুযোগ পাবে। আগে এখানে যাতায়াতের কোন সুযোগ ছিলো না কিন্তু এখন চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য স্কুল তৈরি করা হয়েছে যা এ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন পথ দেখাবে।

কোন জনগোষ্ঠীকে অবহেলিত রেখে কোন জাতি উন্নতির শীখরে আরোহণ করতে পারে না উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ” এসকল বাচ্চাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব আমি নিলাম, টাকা পয়সার জন্য যেন তাদের পড়ালেখা বন্ধ না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ইউপি মেম্বার ও অভিভাবকদের আহ্বান জানান। লেখাপড়ার পাশাপাশি সন্তানদেরকে খেলাধুলায় উৎসাহ প্রদান ও নৈতিক শিক্ষা দেয়া জরুরী। এখানে স্কুল প্রাঙ্গনে কোন খেলার মাঠ নেই, আগামী বছর আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে স্কুল পাশের খাস জমিতে বাচ্চাদের জন্য একটি খেলার মাঠ তৈরি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জেলা প্রশাসক। স্থানীয়দের ধর্মচর্চার জন্য উত্থাপিত মন্দির নির্মাণের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি বলেন- খুব দ্রুত এখানে মন্দির তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন বাচ্চাদের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরী। উক্ত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ৬০জন শিক্ষার্থীর মাঝে আর্থিক অনুদান এবং চকলেট বিতরণ করেন। ভবিষ্যতে যে কোন প্রয়োজনে আরো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।

অনুষ্ঠানের সভাপত্বি করেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো: রুহুল আমীন। এছাড়াও এখানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগন এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

মতামত দিন