আপত্তিকর ছবি তুলে ফেসবুক ও পোষ্টারে প্রচার, লজ্জায় স্কুল ছাড়ল নবম শ্রেণীর ছাত্রী

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী বিদ্যালয় যাওয়া পথে কয়েকজন বখাটে জোর করে আপত্তিকর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও জন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোষ্টারিং করার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে আইনী সহায়তা চেয়ে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গত ২৮ আগষ্ট বুধবার রাত সাড়ে ১১ টায় লামা থানায় মামলা করে। মামলায় মামুন নামের এক বখাটের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। গত ২২ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বড়ছন খোলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

স্কুল ছাত্রীর মা মুঠোফোনে বলেন, আমার মেয়ে চকরিয়া উপজেলার রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে। গত এক সপ্তাহ আগে আমার মেয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া পথে পথরুদ্ধ করে আমাদের এলাকার বড়ছন খোলা পাড়ার জাফর আলমের ছেলে মোঃ মামুন (২৭) আমার মেয়েকে জোর পূর্বক জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে। এ সময় আমার মেয়ে বাঁধা দিলে জীবন নাশের হুমকী দিলে সে ভয় পেয়ে যায়। পরে ছবি গুলো দিয়ে আমার মেয়েকে জিম্মি করার চেষ্টা করে মামুন। এ ঘটনায় আমার মেয়ে ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলে বখাটে মামুনসহ তার সহযোগীরা ছবি গুলো ছাপিয়ে রঙ্গিন পোষ্টারিং করে এলাকান জন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগিয়ে দেয়। এ ছাড়া বখাটেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও ইমু আইডি থেকে ছবি গুলো পোষ্ট করে ছড়িয়ে দেয়। বখাটেদের ভয়ে এখন আমার মেয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা প্রথমে আমাদের ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর রহিমকে বিচার দিই। ওয়ার্ড মেম্বার ঘটনাটি নিয়ে বৈঠকের চেষ্টা করলে বখাটে মামুনের বাবা- মা বৈঠকে না বসে এড়িয়ে যায়। পরে আমি এ ঘটনায় গত ২৮ আগষ্ট রাত সাড়ে ১১ টায় বখাটে মামুনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লামা থানায় অভিযোগ করেছি।

বিষয়টি নিয়ে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আমার এলাকার এক নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোর পূর্বক জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে ফেইসবুক, ইমুতে ছেড়ে দেয় বখাটে কয়েকজন যুবক। আমার ওয়ার্ডের জন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছবি গুলো রঙ্গিন পোষ্টারিং করে লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ঐ স্কুল ছাত্রীর মা ও তার বাবা গত ২৭ আগষ্ট বিচার নিয়ে এসেছিল। পরে এ ঘটনায় দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা করি। অভিযুক্ত মামুনের বাবা ও মা বৈঠকে মামুনকে উপস্থিত না করায় আমি মেয়ের বাবা-মাকে থানায গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দিই। পরে বুধবার রাতে তারা লামা থানায় গিয়ে অভিযোগ দেয়।

স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে লজ্জায় ঘর থেকে বাহির হতে পারছেনা। বখাটে মামুনগংদের ভয়ে আমার মেয়ে গত চারদিন ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা। বৃহস্পতিবার বিকালে লামা থানা থেকে তদন্ত করতে পুলিশ এসেছিল। আমি ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ আয়াত বলেন, আমি বড়ছন খোলা এলাকায় স্কুল ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তোলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে তদন্ত কাজে ব্যস্ত রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে অফিসার ইনচার্জ বক্তব্য দেবেন।

এ ব্যাপারে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা সাংবাদিককে বলেন, স্কুল ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তোলার ঘটনায় লামা থানায় মামলা হয়েছে। তবে, এ ঘটনায় জড়িত আসামীদের ধরার আগ পর্যন্ত কাউকে তথ্য দিচ্ছিনা । আসামী ধরার পর সাংবাদিকদের তথ্য দেয়া হবে।

মতামত দিন