কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে প্রকল্পের ২১২ দুদর্শাগ্রস্ত শিশুর পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, (লাামা) বান্দরবান প্রতিনিধি:

কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে মধ্য ও দক্ষিণ বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিলছড়ি এলাকায় ২১২ জন উপকারভোগী শিশুর পরিবাবের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৮টায় চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের হেব্রোণ মিশন মাঠে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ হয়।

প্রতি পরিবারে ১৫ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি পিয়াঁজ, ১ লিটার তেল, ১২০ গ্রাম ওজনের ১টি লাইফবয় সাবান, ৩টি করে কাপড় কাঁচা হুইল সাবান ও ৫ টি করে মাস্ক বিতরন করা হয়েছে।

২১২টি পরিবারের জন্য মোট ত্রাণ ৩১৮০কেজি চাল, ৪২৪ কেজি ডাল, ২১২ লি. তেল, ১০৬ কেজি আলু, ২১২ কেজি পিয়াঁজ, ২১২টি বড় সাইজের লাইফবয় সাবান, ৬৩৬টি কাপড় কাচা সাবান এবং ১০৬০টি মাষ্ক বিতরন করা হয়।

“জরুরী রেশন বিতরনের সময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. শফিকুর রহমান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তথা বাংলাদেশ ট্রাইব্যাল এসোসিয়েশন অব্ ব্যাপ্টিষ্ট চার্চেস (বিটিএবিসি)-এর সস্মানিত ট্রেজারার মি. সুভাষ ত্রিপুরা ও জেনারেল সেক্রেটারী মি. বিনয় ত্রিপুরা।

ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের সময় যথাযথভাবে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে “ফুড রেশন প্যাকেট” বিতরণ করা হয়। এই সময়ে বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতনতামূলক গুরুত্ব পূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন বিটিএবিসি-সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারী মি. বিনয় ত্রিপুরা এবং বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. শফিকুর রহমান।

মি. বিনয় ত্রিপুরা বলেন, সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করেন চলেন। যেমন- নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, জরুরী প্রয়োজনে ঘর থেকে বাইরে না যাওয়া, পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার করা ইত্যাদি। তিনি আরো বলেন এই ত্রাণ বিতরন কোন প্রতিযোগিতা নয়, এটি মানতার কাজ-আমাকে আপনাকে অসহায়দের পাশে দাড়াতে হবে। আসন্ন আম্ফান সাইক্লোনের পূর্ভাবাস সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার জন্য আহবান জানান।

প্রকল্প ম্যানেজার মি. যোনা ত্রিপুরা প্রকল্পের সকল উপকারভোগীদের উৎসাহ প্রদান করে বলেন যে, যদি আমরা নিজেরা সচেতন হই তবে এই ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে পারবো। অর্থাৎ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া অনর্থক বাইরে ঘোরাফেরা করা, বাজারে জটলা বাধাঁনো, মাস্ক ব্যবহার করা এবং হঠাৎ কেউ যে কোন ভাবে জ্বর, সর্দি, ভাইরাস জনিত রোগ, কাশি অথবা কোন শারীরিক সমস্যা হলে মোবাইলের মাধ্যমে প্রকল্পের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সহযোগীতা নেয়ার পরামর্শ নিতে হবে। প্রকল্প ম্যানেজার আরো বলেন যে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিকে লক্ষ্য রেখে এই জরুরী ফুড রেশন বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

৪নং বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার মো. শফিকুর রহমান লকডাউনের গুরুত্ব বিষয়ে বলেন, আমরা যেন সামাজিক দূরত্ব ও নিরাপদ অবস্থান বজায় রাখি। অযথা যেখানে সেখানে গিয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হই এবং অন্যকেও আক্রান্ত না করায়। সবাই যেন নিরাপদে অবস্থান করেন। আর বর্তমান সংকটে মিশনের প্রকল্প হতে এই সব ত্রাণ সামগ্রী জনগনের জন্য খুবই উপকারে এসেছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছে তা দেশের জন্য এই মহামারী সংকট হতে কেটে উঠা সহজ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

উক্ত প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটি এলসিসি চেয়ারম্যান মি. মনতাজন ত্রিপুরা উপকারভোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন , যারা এই ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছেন তাদের দেশের অবস্থা আমাদের বাংলাদেশের চেয়েও আরো করুন পরিস্থিতিতে আছে। তবুও তাদের মানবতা ও মমত্ববোধ থেকে এই সাহায্য পাঠিয়েছেন। এই লকডাউনের সময়ে কোন প্রকার শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানী বা অসামাজিক কোন কিছু বিষয়েও সর্তক থাকার জন্য বিশেষ ব্যক্ত রাখেন।

এই বিতরন সভায় হেব্রোণ মিশনের ষ্টেশন ম্যানেজার মি. দিগচন্দ্র ত্রিপুরা, হেব্রোণ স্কুলের সহকারী শিক্ষক মি. শ্যামল ত্রিপুরা, স্বাস্থ্যকর্মী মিসেস্ সমরী ম্রো এবং হেব্রোণ বালক হোষ্টেলের সুপার মি. গ্রেনা ত্রিপুরা এবং প্রকল্পের সকল কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এই বিষয়ে বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতলব বলেন, সরকারি অন্য দায়িত্ব থাকায় আমি ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে এই মানবিক কাজের জন্য কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও মধ্য ও দক্ষিণ বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। এনজিওটির শিক্ষা প্রকল্পের কার্যক্রম অনেক সুন্দর ও সময়োপযোগী।

মতামত দিন