ঘূর্ণিঝড় আম্ফান: মংলা ও পায়রা বন্দরসহ ১১ জেলায় ১০ নম্বর ‘মহাবিপদ সংকেত’

নিউজ ডেস্ক:

উপকূলের কাছাকাছি এসে কিছুটা দিক পরিবর্তন করেছে সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’। সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করবে এই সুপার সাইক্লোন।

এদিকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩শ ৯০ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজারে আগের জারি করা ৬ নম্বর বিপদ সংকেত আছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে উপকূলের প্রায় ২১টি জেলার প্রশাসন।

মহাবিপদ সংকেতের আওতায় আছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, বরিশালসহ উপকূলের ১১ জেলা। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ আছে ২০০ থেকে ২২০ কিলোমিটার।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার কথা থাকলেও আম্ফানের দাপটে ইতোমধ্যেই সারাদেশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ দমকা হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান কিছুটা দিক পরিবর্তন করেছে। তবে অভিঘাতের আওতায় থাকবে খুলনা ফেনী পর্যন্ত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একই সঙ্গে পড়তে পারে। বুধবার সকাল থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের পরিবর্তে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে। এই দুটি বন্দরের আশপাশের অঞ্চলও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস (২৯ নং) থেকে জানা যায়, সুপার সাইক্লোন আম্ফান আজ ২০ মে বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আম্ফানের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ৫ থেকে ১০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ১৪০ থেকে ১৬০ মিটার বেগে ঝড়ো বাতাসসহ অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা নৌযানগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মতামত দিন