মানসিক দুশ্চিন্তা কমবে প্রকৃতির সংস্পর্শে

সুমন গোস্বামী:

বর্তমান বিশ্ব এখন ক্ষত বিক্ষত করোনা কঠিন আঘাতে।বিশাল এই পৃথিবীর এমন কোন জায়গা এখন ফাঁকা নেই যেখানে করোনা ভাইরাস নামক আতস্ক প্রবেশ করেনি।
প্রতিদিন পৃথিবী বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ আত্রুান্ত হচ্ছে এই মহামারি করোনা ভাইরাসে।
সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা ও। এর থেকে মুক্তির পাওয়া এখন ও সঠিক ভাবে বের হওয়া সম্ভর হয়ে ওঠেনি কোন দেশের পক্ষে।
একই সঙ্গে ত্রুমশই খারাপ দিকে যাচ্ছে পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্হা। কারণ পুরো পৃথিবীতে একই সঙ্গে লকডাইন চলায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুইশ থেকে তিনশ কোটি মানুষের উপরে। ঘরবন্দি থাকার ফলে বেড়েছে সামাজিক দুরত্ব। খুব পরিচিত সঙ্গেও এই মুহুর্তে সঙ্গ দেওয়া একদম বন্ধ রয়েছে।
সম্পূর্ণ একক ভাবে পরিবারের সঙ্গে একঘেয়েমি সময় কাটাতে কাটাতে অনেকেই হাঁপিয়ে উঠছে । এতে বাড়ছে মানসিক দুশ্চিন্তা ও।
তবে সেই দুশ্চিন্তা লাঘবে একাধিক উপায় ও অবশ্যই আছে। এরকমই একটি উপায় যদি বলা হয় প্রকৃতির সংর্ষ্পশে একান্তভাবে থাকতে হবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।
দুশ্চিন্তা ম্যাজিকের মতো গায়েব হয়ে যাবে সাময়িক ভাবে। তাহলে কেমন হয় এই দুশ্চিন্তা লাঘবে করার জন্য এই রকমই একটি গবেষণায় কথা উঠে এসেছে জনপ্রিয় গুড নিউজ নেটওয়ার্ক-এ।

সেখানে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয় দিনের যে কোন ও সময় ৩০/৪০ মিনিট একান্তভাবে সঙ্গ দিতে হবে প্রকৃতিকে অর্থাৎ এখানে প্রকৃতি সংর্স্পশে থাকতে বলা হচ্ছে।
সারা দিন থেকে মাত্র ৩০/৪০ মিনিট সময় বের করে এই সময়টুকু প্রকৃতি ছাড়া আর কারও সংর্স্পশে আসা চলবে না। তাহলে ম্যাজিকের মতো সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যাবে মানসিক দুশ্চিন্তা। যদিও গবেষণাটি করা হয়েছে ২০১৯ সালে দিকে।
গুড নিউজ নেটওয়ার্ক প্রতিবেদনটিতে আরও জানা যাই প্রকৃতির সঙ্গে এই রকম সময় দেওয়াকে গবেষকরা নেচার পিল নাম দিয়েছে। গবেষনাটি হয়েছে মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে।প্রকৃতির সঙ্গে একান্তভাবে কমপক্ষে ৩০ মিটি কাটালে দুশ্চিন্তা বাড়ানো হরমোন বা কর্টিসল কম উৎপন্ন হয়।আর যদি তার থেকে ও বেশি সময় প্রকৃতি সংর্স্পশে থাকতে পারেন তাহলে হরমোন নি:সৃতের পরিমাণ সর্বনিম্নে পৌঁছে যাবে।
এই গবেষণার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে বেছে নেওয়া হয় বেশ কিছু মানুষকে।এদের উপর প্রায় ৮ সপ্তাহ গবেষণা চালানো হয়। প্রতি সপ্তাহে ৩দিন করে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে তাদের একান্তভাবে প্রকৃতির সংর্স্পশে রাখা হয় ও ২ সপ্তাহ অন্তর পরীক্ষা করা হয় কর্টিসল হরমোন। প্রকৃতির সংর্স্পশে আসার আগে ও পরে এই পরীক্ষা করা হয়।
এই গবেষণার সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে শহরের বসবাসকারিরা।কারণ সবসময় চার দেয়াল বন্দি থাকার অবস্হায় তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা জন্ম দেয় সবচেয়ে বেশি। তারা দিনের যে কোন ও সময় যদি ফাঁকা বারান্দা বা ছাদের ওপর প্রকৃতির সংর্স্পশে একান্তভাবে ৩০/৪০ মিনিট সময় কাটাতে পারেন। তাহলে কিছুটা হলেও সাময়িকভাবে কমতে পারে দুশ্চিন্তা।
বিশেষ করে এই লকডাইনের সময় দারুণ ভাবে কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন একাধিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায় অন্য কিছু না হোক বন্দি জীবন দুশ্চিন্তা থেকে বিনামূল্য সাময়িক মুক্তি মিলে ক্ষতি কি…?

মতামত দিন