৩৯ দিন ধরে ভবঘুরে নরনারী ও পথশিশুদের রান্না করা খাবার দিচ্ছে ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র

সুমন গোস্বামী:

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাটে করোনার মহামারীতে বিপদগ্রস্ত ছিন্নমুল পথশিশু ও ভবঘুরে বৃদ্ধ নর- নারীদের মাঝে দৈনিক ৬০ জন করে আজ ২৩ মে পর্যন্ত ৩৯ দিন ধরে ২৬০০ শত জনকে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি, ইতিহাস গবেষক সোহেল মো.ফখরুদ-দীন। গত ১১ এপ্রিল থেকে শুরু করে প্রথমে সাপ্তাহে ২ দিন, পরে প্রতিদিন রান্নাকরা- খাবার বিতরন করেন তিনি। করোনা মহামারীতে আক্রান্ত সমগ্র পৃথিবীর সাথে বাংলাদেশ ও চট্টগ্রামের মানুষ মহাবিপর্যয়ের মধ্যেই রয়েছে। এর মাঝে চট্টগ্রাম নগরীর পথে পথে পথশিশু ও বৃদ্ধ বয়স্ক ভবঘুরে নর- নারী রয়েছে মহাবিপদে। পথে পথে ছিন্নমুল পথশিশুগুলোর খাবারের অভাব ও ভবঘুরে মানুষ গুলোর খাদ্য সংকট দেখা দেয়।কারন সাধারন মানুষ করোনার কারনে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে, প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ীথেকে বের হচ্ছেনা। তাই ভিক্ষুক শ্রেনীর পথের মানুষ ও পথশিশুদের মহাবিপদ। কোথাও কোন খাবারের দোকান খোলা নেই, নেই কোন মসজিদের সামনে মুসল্লী, কিংবা মাজারের সম্মুখে জিয়ারতের মানুষ, মানুষের চলাফেরা না থাকায় ভিক্ষুক, পথশিশুরা খাবার পাচ্ছে না। সেই কারণে মানবিক একটি কর্মসূচি হাতে নিয়ে প্রাথমিক ভাবে নিজ থেকে অর্থ দিয়ে এবং নিজের পরিবার থেকে রান্না করা খাবার বিতরণের জন্য উদ্যোগী হন সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পথে পথে সীমিত সংখ্যক মানুষের হাতে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে তিনি এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন। তার মহৎ এই কর্মকাণ্ড ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ায় মানবিক এইকাজে হাত প্রসারিত করেন তার দেশ বিদেশের বন্ধু-বান্ধব এবং চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের কয়েকজন উপদেষ্টা। এই পর্যন্ত তিনি ৩৯ দিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত এই রান্না করা খাবার গুলো তার বাসায় তৈরি হয় এবং খাবারগুলো মানসম্মতভাবে প্যাকেট করে মানুষের হাতে হাতে ইফতারের আগে পৌঁছে দেওয়া হয়। সোহেল ফখরুদ-দীন নিজেই এবং তার কয়েকজন বন্ধু মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার,অধ্যক্ষ মোঃ ইউনুস কুতুবী, মোঃ আবু বাক্কর, ইঞ্জিনিয়ার সৌমেন বড়ুয়া,ডা.মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কাজী মো. আরফাত, সাজিদ মো.শরফুদ-দীন, মোহাম্মদ সাফায়েত উদ-দীন, এবিএম মাসুদ, মো. আলমগীর ইসলাম সহ আরোকয়েজন প্রতিনিয়ত তাঁরা পথে পথে এই খাবারগুলো তুলে দিয়ে আসেন। মানবিক এই কর্মসূচিতে এই কাজগুলো করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং খুশি। সোহেল মো. ফখরুদ-দীন জানান, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ, পেশায় ইতিহাস লেখক, জীবনীকার ও আলোকচিত্রশিল্পী। লেখালেখির সাথে জড়িত কিন্তু পৃথিবীর থেমে থাকা এই অবস্থায় মানবিক কর্মকাণ্ডে আমি গৃহে বসে থাকতে পারলাম না। নিজের অর্থ এবং বন্ধু-বান্ধবদের সহযোগিতা নিয়ে মানবিক এই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লাম। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিদিন এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া আমার ইচ্ছা রয়েছে। আশা কররো বন্ধু স্বজন এই কর্মকাণ্ডে আন্তরিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত রাখবেন। আমার মতো এরকম উদ্যোগ গ্রহণ করে আরো মানুষ মানবিক কাজে নেমে আসে তাহলে সত্যিকার অর্থে সরকারের পাশাপাশি আমরা নিজেদের অবস্থান টুকু একদিন জাতির কাছে প্রমাণ করতে পারবো। আমরা মানুষ ছিলাম। মানুষ মানুষের জন্য, মানুষের জন্য আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আসুন সকলে মিলে এই করোনার মহাবিপদ সময়ে বিশেষ করে পথে-প্রান্তরে যে সমস্ত ভবেগুরে এবং পথশিশু রয়েছে তাদেরকে আমরা নিজ উদ্যোগে একটু খাবার দিয়ে জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসি।

মতামত দিন