করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে জয়পুরহাটে আক্রান্ত হলেন ১১ জন

রিফাত আমিন রিয়ন, জয়পুরহাট ||

জয়পুরহাটে আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর আইসোলেশনে থাকা এক করোনা রোগীর সংস্পর্শে এসে একই গ্রামের ভাদসা ইউনিয়নের পালি গ্রামের ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এক সপ্তাহ আগে চারজনের শরীরে করোনা ভাইরাস উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরপর শনিবার রাতের রিপোর্টে আরও ৭ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এছাড়া সদর উপজেলায় আরও ২জন, ক্ষেতলাল উপজেলায় ২ জন, পাঁচবিবি উপজেলায় ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় এই প্রথম দুইজন চিকিৎসকসহ ১৪ জন ও শনিবার সকালের রিপোর্টে আরও ৫ জনসহ জেলায় ১৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৭১ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। শনিবার দুই দফায় ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবেরেটরী মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরি থেকে পাঠানো রিপোর্টে ৩১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩০০ জনের নমুনা নেগেটিভ হলেও ১৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা: সেলিম মিঞা ।

ভাদসা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন জানান, ভোলা জেলা থেকে ২৫ বছরের এক গৃহ নির্মাণ শ্রমিক জয়পুরহাটের পালি গ্রামে আসলে স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমূনা সংগ্রহ করে। তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলার পরেও সেই যুবক তা না মেনে এলাকাবাসীর সাথে মেলামেশা করে। এতে প্রথম অবস্থায় এক সপ্তাহ আগে ভাদসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার পুত্র, ২৫ বছরের যুবক, ৪৫ বছরের পুরুষ আক্রান্ত হন। শনিবার রাতের রিপোর্টে চেয়ারম্যান এর স্ত্রী, ওই গ্রামের ১২ ও ১৪ বছরের দুইজন শিশু, শিশু মা ও দাদীসহ আরও ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হন।

এছাড়া সদর উপজেলায় ভানাইকুশলিয়ায় ১০ বছরের শিশু ও নুরপুর গ্রামে গার্মেন্টস ফেরত এক নারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ক্ষেতলাল উপজেলার মিবপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ৪০ বছরের পুরুষ, রসুলপুর গ্রামের ২৮ বছরের যুবতী, পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই গ্রামের ২৫ বছরের যুবক।

এই প্রথম জয়পুরহাটে দুইজন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত দুইজন বেশ কিছুদিন অগে ৩৯ তম বিসিএস চিকিৎসায় সহকারী সার্জন হিসেবে জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও আক্কেলপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন, পরে গোপীনাথপুর আইসোলেশন সেন্টার ইউনিটের অতিরিক্ত দায়িত্বে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা জানান, আক্রান্তরা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছিল, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবেরেটরী মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার থেকে পাঠানো রিপোর্টে ৩১৯ জনের মধ্যে ১৯ জনের পজিটিভ হয় আক্রান্ত সকল করোনা রোগীকে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর অব হেলথ টেকনোলজির আইসোলেশন ইউনিটে (সেফ অতিথিশালা) পাঠানো হয়। আক্রান্ত দুইজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন গোপীনাথপুর আইসোলেশনে এবং একজন বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মতামত দিন