বাংলাদেশে নদীর দুই পাশে করোনা সংক্রমণে বিশাল পার্থক্য

নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশে ৪টি নদী দ্বারা বিভক্ত দেশের পূর্ব অংশের সংক্রমণ পশ্চিম অংশের চেয়ে প্রায় সাতগুণ বেশি। অবাক করা বিষয় হলেও এটি সত্যি। কিন্তু একই দেশের দুই অংশে কেন এই বিশাল ফারাক তা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে নতুন কিছু তথ্য।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। সেই হিসাবে দেশে করোনা সংক্রমণের ১২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। এবছরের ২৯ মের উপাত্ত অনুযায়ী দেশে করোনায় আক্রান্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ৮৪৪ জন। তবে সংক্রমণের পরিমাণ দেশের সব স্থানে এক রকম নয়।

ভূতাত্ত্বিক বিভাজনের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণের হার বিভিন্ন রকম। কিছু এলাকায় সংক্রমণ এখনও বেশ কম। সংক্রমণের সঙ্গে ভূতাত্ত্বিক বিভাজনের ভূমিকা দেখার জন্য সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের ভূ-সংযোগ ও করোনা সংক্রমণের অবস্থা খতিয়ে দেখেছে বাংলা ট্রিবিউন গবেষণা বিভাগ। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা দ্বারা বিভাজিত বাংলাদেশের পূর্ব পাশের জেলাগুলোতে সংক্রমণের পরিমাণ পশ্চিম পাশের পরিমাণের চেয়ে প্রায় সাতগুণ বেশি।

ঢাকার সঙ্গে ভূমি সংযোগের ভিত্তিতে সংক্রমণ পরিস্থিতি:

ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডটি ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা দ্বারা বিভাজিত। এই চারটি নদীর সমন্বিত গতিপথ দেশের উত্তর অংশ থেকে ক্রমেই দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর গিয়ে পড়েছে। এই নদীগুলোর গতিপথ দিয়ে বাংলাদেশকে যদি মোটা দাগে দুই ভাগে বিভক্ত করতে হয় তাহলে আমরা দেশকে মোটা দাগে পশ্চিম ও পূর্ব এই দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি। দেশের উত্তরের পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা বরিশাল ও খুলনার জেলাগুলো পর্যন্ত অঞ্চলকে মোটা দাগে পশ্চিম ভাগ এবং জামালপুর-ময়মনসিংহ থেকে সিলেট হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পর্যন্ত জেলাগুলোকে পূর্ব ভাগের জেলা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি।

এ হিসেবে দেশের উত্তর-পশ্চিম পাশে আছে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৩৭টি জেলা। আর উত্তর-পূর্ব পাশে আছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ২৭টি জেলা। এই বিভাজনের ভিত্তিতে উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, পশ্চিম পাশের ৩৭ জেলা থেকে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৯১৭ জন। এই জেলাগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার। সেই হিসাবে এই অঞ্চলে প্রতি লাখ মানুষে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ জন। অপরদিকে পূর্ব পাশের ২৭ জেলা থেকে সর্বমোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৮২৩ জন। এসব জেলার সম্মিলিত জনসংখ্যা ৭ কোটি ৯৩ লাখ। প্রতি লাখের জনসংখ্যায় এই অঞ্চলে আক্রান্তের হার ৩৪ জন (চিত্র-১)। অর্থাৎ, পূর্ব পাশে সংক্রমণ পশ্চিম পাশের চেয়ে প্রায় সাতগুণ বেশি। এই পার্থক্যের কারণ জানতে হলে খতিয়ে দেখতে হবে সংক্রমণের কেন্দ্রটি কোন পাশে আছে।

বাংলাদেশে সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল হচ্ছে ঢাকা এবং এটি নদী বিধৌত অঞ্চলের পূর্ব পাশে অবস্থান করে। এটা অঞ্চলের সংক্রমণ পরিস্থিতির সঙ্গে সংক্রমণের কেন্দ্রের ভূতাত্ত্বিক সংযোগের সম্পর্ক নির্দেশ করে। এই ভূতাত্ত্বিক সম্পর্কটি হচ্ছে সংক্রমণের কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার ধরন। এক্ষেত্রে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ার কারণে পূর্ব পাশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বেশি। পশ্চিম পাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক ধীর হওয়ায় সেখানে এমনটি ঘটেনি। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

মতামত দিন