ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করতে শিবির ক্যাডার কন্ট্রাক করেন ইউপি চেয়ারম্যান! (ভিডিও)


শহীদুল ইসলাম বাবর,দক্ষিণ চট্টগ্রাম:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দীন সজিবকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে। রেকি করার দায়িত্ব পালন করা দুই ভাড়াটে সন্ত্রাসী ভোররাতে ঘটনাস্থল থেকে ধৃত হওয়ার পর তারাই এ পরিকল্পনার কথা ফাসঁ করেন। পরিকল্পনাকারী হিসেবে আওয়ামীলীগ মনোনীত বাজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত ও কিলার গ্রুপের সদস্য হিসেবে একাধিক সহিংসতা মামলার আসামী জামাত ক্যাডার সদ্য কারামুক্ত রাশেদের নাম প্রকাশ করেছে ধৃতরা।

স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় কোন্দলের কারণে প্রতিপক্ষ হিসেবে তৈরি হওয়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদককে হত্যার জন্য শিবির ক্যাডারকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠে আওয়ামী লীগ মনোনীত এই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার দিনগত গভীর রাতে বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহ চৌধুরীর বাড়ির সামনে থেকে বহিরাগত দুই যুবককে আটক করে স্থানীয় জনতা পুলিশে সোর্পদ করেছে। এরা হলেন, উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড়ের আব্দুল গনির ছেলে হাবিবুর রহমান (২৮) ও ছদাহা ইউনিয়নের উত্তর ছদাহা এলাকার মোহাম্মদ সিরাজের পুত্র তরিকুল ইসলাম জিসান (২৫)। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

এ ভিডিওটিতে ধৃতরা চেয়ারম্যান তাপস দত্তের পরিকল্পনায় রাশেদের সঙ্গী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা শহীদুল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সজিবের গতিবিধি লক্ষ্য করার কাজ করছিল বলে বলতে শুনা যায়। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল কবীর বলেন, বাজালিয়া থেকে দুই যুবককে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। দুই জনকেই আমরা সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার নিয়ে গিয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষ আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামীলীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক তাপস কান্তি দত্ত দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের উপেক্ষা ও জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের নানা ভাবে সহযোগিতা করার কারনে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সাথে বার বার ঝামেলা চলে আসছিল। এরিমধ্যে উভয় গ্রæপের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। যুবলীগ নেতা প্রশান্ত কুমার যিশু অভিযোগ করে বলেন, আমি চট্টগ্রামে রাজনীতি করি, স্থানীয় রাজনীতির সাথে আমি সম্পৃক্ত নই। আমার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় আমি গ্রামে অবস্থান করছি। আর এর মধ্যেই চেয়ারম্যান তাপসের নেতৃত্বে জামায়াত শিবিরের ক্যাডার রাশেদ, মাসুদরা আমার ঘরে হামলা করে মালামাল ভাংচুর ও লুট করেছে।

বাজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, তাপস চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই বাজালিয়াতে জামাত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে। আওয়ামীলীগ নির্মূলের জন্য তাপস জামাতের ক্যাডারদের ব্যবহার করছে। আমরা এ বিষয়টি বার বার সংগঠনের উর্ধ্বতন নেতাদের অভিযোগ করে আসছি। সর্বশেষ আমাকে ও আওয়ামীলীগের নিবেদন প্রান সজিবকে হত্যার পরিকল্পনা করতেও দ্বিধা করেননি এই চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ চেয়ারম্যানের এ ধরনের কর্মকান্ডের বিষয়ে আমাদের অবহিত করেছেন। আমরা এ বিষয়ে উদ্যেগ নিচ্ছি। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন সজিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে কিলার পাঠানো এটি অত্যান্ত নিন্দণীয় কাজ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত বলেন, আমি কোন জামায়াত শিবিরকে প্রশ্রয় দিচ্ছিনা। সজিবকে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে আমি কোন ধরনের অবগত নই। আমি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করি। এটি সহ্য করতে না পেরে নানা ধরনের কথা রটাচ্ছে তারা।

মতামত দিন