মিরসরাইয়ে করোনাঝুঁকি নিয়ে খামারীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর


এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই :
মিরসরাই উপজেলার গবাদিপশু পালনকারী ও খামারীদের ভরাস্থল হয়ে উঠেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তম্মধ্যে অন্যতম এনএটিপি ফেজ-২ প্রকল্প, এলডিডিপি প্রকল্প, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল উন্নয়নও সম্প্রসারন প্রকল্প, আধুনিক প্রযুক্তিতে গরুহৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্প, পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির আর্থ সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর মধ্যে এনএটিপি ফেজ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে গাভী পালন, গরুহ্নষ্টপুষ্টকরণ, ছাগল পালন ও মুরগী পালন সিআইজি সমবায় সমিতির প্রত্যেকটিতে ১ জন করে ৪৮ জন খামারীকে উপকরণ প্রদান করা হয়। চলতি বছরের ১৭ মার্চ মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মিরসরাইয়ের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের উপস্থিতিতে ১৬ জন মুরগীর খামারীর মাঝে ১০টি সোনালী (ফাউমী) মুরগী, ১ টি করে মুরগীর ঘর, মুরগীর খাদ্য, সাইনবোর্ড ব্রিফিং ভাতা বিতরণ করা হয়। এরপর গত ৩ জুন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে ১৬ জন গাভীর খামারীদের মধ্যে ৬ বস্তা করে গরুর খাদ্য, ১টি মেঞ্জার, ১ টি সাইনবোর্ড, ২ কেজি ভিটামিন, প্রয়োজনীয় কৃমির ঔষধ ও ব্রিফিং ভাতা প্রদান করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ জুন ১৬ জন গরু হৃষ্টপুষ্টখামারীদের মধ্যে ৫ বস্তা করে গরুর খাদ্য, ২ টিন করে চিটাগুড়, ১টি মেঞ্জার, ১টি সাইনবোর্ড, ২ কেজি ভিটামিন, প্রয়োজনীয় কৃমির ঔষধ ও ব্রিফিং ভাতা প্রদান করা হয়।

মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র পোদ্দার জানান, ইতিমধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মিরসরাই উপজেলায় সিআইজি ও নন-সিআইজি খামারীদের মাঝে ৩৪টি ডিওয়ার্মিং ক্যাম্পেইন, ৯৬টি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন, ১৬টি ফডার ডেমোনেসেষ্ট্রশন, ১১টি সিআইজি প্রশিক্ষণ, ৮টি সিআইজি এবং নন-সিআইজি সমাবেশ, ১৬টি ইনফার্টিলিটি ক্যাম্পেইন, ১টি এক্সপোজারভিজিটি সম্পাদন করা হয়। নির্ধারিত ৯৬০ জন সিআইজি সদস্য ছাড়াও প্রায় ৪ হাজার জন সুফলভোগী এই সুবিধা পেয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, মিরসরাই উপজেলা বর্তমানে ডিম, দুধ ও মাংসে স্বয়ংসম্পূন্নতা অর্জন করেছে। দেশের মোট আমিষের শতকরা ৬০ ভাগ যোগান দেয় প্রাণিজ আমিষ, যা বাস্তবায়নে প্রাণিসম্পদ বিভাগ অগ্রনী ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে জরুরী সেবা হিসাবে ঘোষনা করা সময়ের দাবী।

মতামত দিন