চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধি করতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সম্মিলিত পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ

চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সেবা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ চেয়ে পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ সংবাদপত্রে এক বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতি দাতারা হলেন সাবেক বার কাউন্সিল সদস্য ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভি.সি. ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ মোক্তার আহমদ, সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ.এইচ.এম. জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মো. ফরিদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. সামশুল ইসলাম, প্রফেসর এইচ.এম. আলমগীর, প্রফেসর ড. জাকির হোসেন প্রমুখ।
উক্ত বিবৃতিতে পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মানুষকে করোনার আক্রমন হতে বাঁচার জন্য (কীট টেস্ট) চিকিৎসা সেবার প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও অদৃশ্য কোন অশুভ শক্তির কারণে এখনও পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। বিভিন্ন বেসরকারী মেডিকেল হাসপাতাল গুলো সরকারী সিদ্ধান্ত না মেনে করোনা চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোন ভূমিকা রাখছে না। এতে আমরা চট্টগ্রামবাসী প্রতিদিন গভীর সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছি। তাই চট্টগ্রামবাসী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। যাতে করে করোনার আক্রমন হতে চট্টগ্রামবাসী রক্ষা পায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুচিকিৎসা লাভের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে নিরাপদে থাকতে পারে। এই করোনার বিরুদ্ধে যে সমস্ত চিকিৎসক. স্বাস্থ্য কর্মী, পুলিশ সদস্য, র‌্যাব, আনসার, সশস্ত্র বাহিনী ও ইলেকট্রিক এবং প্রিন্ট মিডিয়াসহ সাংবাদিকবৃন্দ সম্মুখ লড়াইয়ে অবতীর্ণ আছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং আশা করি এই করোনা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। আমরা আরোও লক্ষ্য করছি যে, অনেক কোভিড অসুস্থ ব্যক্তি এই মূহুর্তে চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। তাই সকল চিকিৎসকের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহবান থাকবে তারা যেন কোভিড এবং নন কোভিড রোগীদেরকে এই দু:সময়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।
আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্বাস্থ্য উপকরণ যথা ঔষধ, অক্সিজেন সিলিন্ডার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্যাভলনসহ প্রয়োজনীয় মেডিসিন অস্বাভাবিক মূল্যে ক্রেতাদের নিকট বিক্রয় করছে যা অমানবিক। তাই আমরা সকল ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড পরিহার করে মানবিক আচরণ করার মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারনের মাধ্যমে উল্লেখিত পণ্যগুলো বিক্রয় করার জন্য।
চট্টগ্রামে করোনা বিরোধী সমস্ত সেবাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো পুন:বিন্যাস করে করোনার আক্রমন হতে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করার জন্য আই.সি.ইউ আসন বৃদ্ধি প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। করোনা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্টের কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এসব রোগী আইসিইউতে থাকাকালীন প্রতি ৫মিনিটে ৫০ হতে ৬০ লিটার অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, কিন্ত আমাদের আইসিইউতে বর্তমানে প্রতি ৫ মিনিটে ১৬ লিটার অক্সিজেন সার্পোট দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। তাই এই চরম মূহুর্তে প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট বসানো প্রয়োজন। বেসরকারী হাসপাতাল সমূহে আইসিইউ সুবিধা থাকলেও তারা অমানবিকভাবে সেবা প্রদান হতে বিরত রয়েছে যা অত্যন্ত দু:খজনক ও অমানবিক। যে সমস্ত বেসরকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকার হতে অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল ব্যবসা শুরু করেন। তাতে রোগীদের সেবা দেয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নিমূল আইন,২০১৮} অনুসারে যে সমস্ত বেসরকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারী নির্দেশ অমান্য করে করোনা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন না সে সমস্ত বেসরকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তদুপরি দি মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট ১৯৮০ এ একজন রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসকের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনুযায়ী সেবা দেওয়ার কথা লিপিবদ্ধ থাকলেও তাঁরা সেবা প্রদান থেকে বিরত থাকছেন। এমতাবস্থায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ে জরুরী ভিত্তিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য নেতৃবৃন্দ জোর দাবী জানান।

মতামত দিন