একটি মানবিক সাহায্যের আবেদন


ও জেডা ফইরার বাপ একদিন বুঝিবা জেডা একদিন বুঝিবা। জনপ্রিয় এই গানটির রচয়িতা ও সুরকার
চট্টগ্রামের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তী সৈয়দ মহিউদ্দীন (মহি ভাণ্ডারী) দীর্ঘদিন ধরে নানান জটিল রোগে ভুগছেন। করোনার এই সময়ে তিনি নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় ওনার চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সবাইকে মহিউদ্দিন ভাইয়ের জন্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সৈয়দ মহিউদ্দিন দেশের সংগীত অঙ্গনের অতি পরিচিত এবং প্রিয় মুখ। চট্টগ্রামে অসংখ্য গুনী শিল্পীর তিনি ওস্তাদ। সঙ্গীতে পান্ডিত্য আছে, এমন গুনীজনরা সৈয়দ মহিউদ্দিনকে গুরু বলেই সম্বোধন করে। জীবনের সকল স্বাদ আহ্লাদকে তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন সঙ্গীতের মাঝে। তাঁর গানের সাথে পরিচিত নয়, দেশে এমন সংগীত বোদ্ধা এবং শ্রোতা নেই বললেই চলে। জীবন শুরু করেছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। গীতিকার এবং সুরকার হিসেবে রয়েছে দেশজোড়া খ্যাতি।ব্যক্তিজীবনে চিরকুমার কিংবদন্তি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের গীতিকার সুরকার সৈয়দ মহিউদ্দিন। সম্পর্কটা প্রায় ২৬ বছরের ২০০১ সাল থেকে প্রতিনিয়ত ও যোগাযোগ আর বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি। দুজনের সম্পর্ক পিতা পুত্রের মতো যদিও আমি মহিউদ্দিন ভাই বলে ডাকি। সপ্তাহে চার দিন নিয়ম করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বা আমি কেমন আছি সেই বিষয়ে ফোন করে খোঁজখবর তিনি নিতেন। নতুন কোন গান লিখলে কয়েক দফা ফোন করে সে গানটি শোনাতেন এবং কেমন লেগেছে তাও আবার জানতে চাইতেন। উনাকে নিয়ে ডকুমেন্টারি করার কথা ছিল গত মার্চ মাস থেকেই এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী একটি গান ভিডিও করার কথা ছিল। কিন্তু মানুষটি আজ দুঃসময়ের মুখোমুখি সময় কাটছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে নিদারুণ কষ্ট নিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি। জীবনের অনেক কিছু নিয়ে আফসোস আমার কাছে নানা আলোচনায় বলতেন। নিঃসঙ্গ মানুষটি বলতেন তার কষ্টের কথা জীবন যাপনে। প্রথম চট্টগ্রামের ভাষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে গান রচনা করেছেন যে গানটি গেয়েছেন সনজিত আচার্য। এই করোনার দুর্যোগে আমি বাসায় গিয়ে দুই দফা দেখা করে এসেছিলাম।
তাঁর রচিত এবং সুরারোপিত গান যা মানুষের মুখে মুখে। উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। ” অ জ্যাডা ফইরার বাপ”, মেজ্জান দিয়ে মেজ্জান দিয়্যে” আসকার ডি’র পুব পারত আঁ র ভাংগা চুরা ঘর, মন হাচারা মাঝি, পিরিত মানে ফুডুর ফাডুর, পাতা বালি, সাম্মান মাঝি সাম্মান বার, গিরাইল্ল্যা কচুর লতি, সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের জনক তিনি।
সৈয়দ মহিউদ্দিনকে জীবনমুখী আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা বলা হয়। আধুনিক গানের ডামাডোলে যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান আকর্ষণ হারাতে বসেছিল তখনই হাতেগোনা যে কজন গীতিকার-সুরকার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আবারও প্রাণ দিয়েছেন সৈয়দ মহিউদ্দিন তাদের মধ্যে একজন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের সঙ্গীত গুরু সৈয়দ মহিউদ্দিন। তাঁর কথা ও সুরে শেফালী-শ্যামের বহু গান আজো দাগ কাটে শ্রোতাদের হৃদয়ে, হয়েছে কালজয়ী। শেফালী-শ্যাম যুগের পর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আজও দর্শক-শ্রোতাদের মনে ঠাঁই করিয়ে দেয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সৈয়দ মহিউদ্দিনের।(সত্যিই গানটি এই মুহূর্তে করোনাকালে কিছু মানুষের জন্য সত্য হয়ে এসেছে)
অনুরোধে কমল দাশ, 01718079397

মতামত দিন