দীর্ঘ ৩ বছর দুই মাস কোমায় থাকার পর মৃত্যুর কাছে পরাজিত মেধাবী ছাত্র আনাস

দীর্ঘ ৩ বছর কোমায় থাকার পর মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে হেরে গেলেন মেধাবী ছাত্র আনাস।
তিনি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামের প্রবাসী নুরুল আবসারের জ্যেষ্ঠ পুত্র আবতাহি সিদ্দিক আনাস আবুধাবি মেরিল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন। তিন বছর পূর্বে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্কুল শেষ করে কোচিং এ যাওয়ার পথে শিল্পনগরী মোসাফফাহ’র একটি সাবওয়ে পার হবার সময় জনৈক জর্ডানী নাগরিক চালিত দ্রুতগামী গাড়ীর সাথে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর কোমায় চলে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী জর্ডানী ও তার গাড়ী আটক রেখেছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হবার পর তাকে আবুধাবির বিশেষায়িত মাফরাক হাসপাতালের আই সি ইউতে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। এক বছর পর সেখান থেকে তাকে হাসপাতালের লং টার্ম কেয়ার ইউনিটে নেয়া হয়। এবং সর্বশেষে আবুধাবির সৌদি সীমান্তবর্তী সিলা সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর শারিরীক অবস্থা গ্লাসগো কোমা স্কেলের ৭ম স্কেলে ছিল । হাসপাতালে তাকে নিয়মিত ফিজিওথেরাপী সহ সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। জানা গেছে মস্তিষ্কের নার্ভাস সিস্টেমের এই সংকট থেকে চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় উত্তরণ সহজসাধ্য নয়।আর দীর্ঘ ৩ বছর দুই মাস কোমায় থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে আবুধাবির সৌদি সীমান্তবর্তী সিলা সেন্ট্রাল হাসপাতালে পরিবার পরিজন সহ সবাইকে শোকসাগরে ভাসিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো আনাস।
আনাসের একমাত্র ছোট ভাই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া ইমাদ সুযোগ পেলেই ছুটে যেত বাবা মায়ের সাথে ভাইয়ের শয্যাপাশে। সাড়া পাওয়ার আশায় ভাইকে ডাকলেও মিলতো না সাড়া ।আবসার দম্পতির জ্যেষ্ঠ পুত্র আনাসের ফিরে আসার আশায় কাটিয়েছেন দীর্ঘকাল। কিন্তু নিয়তির লিখনি কেউ পরিবর্তন করতে পারে না।অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী ছাত্র আনাসের সুস্থতার জন্য তার স্কুলে দুর্ঘটনার পর থেকেই নিয়মিত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হতো।তাঁর অকাল মৃত্যুতে প্রবাসী এবং শিক্ষক-ছাত্রদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মতামত দিন