করোনার মধ্যেও রাঙ্গুনিয়ায় চলছে পাহাড় কাটা

এম. মতিন, রাঙ্গুনিয়া।

করোনা সংক্রমণ রুখতে স্থানীয় প্রশাসন যখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায় সরফভাটা ইউনিয়নে দিনরাত প্রকাশ্যেই পাহাড় কাটছে তিন ভাইয়ের থ্রিস্টার সিন্ডিকেট।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন চিরিঙা বনবিটের আওতাধীন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রূপনগর সংলগ্ন উড়ইল্যে পাড়ার সংরক্ষিত বনের নতুন রাস্তার পাশে গত ১ মে থেকে দিনরাত সমানে চলছে পাহাড় কাটা।

পূর্ব সরফভাটা সিকদার পাড়া এলাকার মৃত কালু মিয়া সিকদারের পুত্র রহমত আলী, মোহাম্মদ আলী ও আশরাফ আলী নামের তিন ভাইয়ের থ্রিস্টার সিন্ডিকেট এসব পাহাড় কাটছে বলে জানায় এলাকাবাসী।

এ নিয়ে গত ১৪ মে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন বন্ধ ছিল পাহাড় কাটা বন্ধ হলেও বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির সুযোগের ফের শুরু হয় ৩ ভাইয়ের নেতার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা পাহাড়খেকো চক্রটি। তার পুনরায় শিরু করে সেই পাহাড় কাটা।

গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে পাহাড় কাটা এসব মাটি ট্রাক ভর্তি করে উপজেলার সরফভাটার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে ফের অভিযোগ উঠে। এমনকি সরফভাটার সিপাহি পাড়া এলাকায় বিল জমি ভরাটের কাজেও বিক্রি করা হচ্ছে এসব পাহাড় কাটা মাটি। পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করার পাশাপাশি একই এলাকায় নির্বিচারে বনভূমি উজাড় করার অভিযোগও উঠছে তাদের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও এই পাহাড়টির গাঁ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে সরফভাটা-শিলক বিকল্প সংযোগ সড়কটি। নির্বিচারে এই পাহাড় কাটার ফলে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশংকা করছে স্থানীয়রা।

নুরজাহান নামের একজন স্থানীয় জানান, অনেকদিন ধরে পাহাড় কাটছে তারা তিন ভাই মিলে। আইনের তোয়াক্কা না করেই দিনে রাতে প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে তাঁরা। কেউ কিছু বললেই রহমত আলী, মোহাম্মদ আলী ও আশরাফ আলীরা গালিগালাজ করে মারতে তেড়ে আসে। গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকির ভয়ে কেউ কিছু বলছেও না। এমনকি সহ-অংশীদারদের জমিজমাও তাঁরা তিন ভাই জবরদখলে দখল করে রেখেছে। চেয়ারম্যান ডেকে তাদের বাধা দিলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে রহমত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এসব কিছু জানি না, আমি কয়েকদিন যাবত বাড়ীর বাইরে ছিলাম। তবে অভিযোগ আংশিক সত্য। আমরা ভাইয়েরা কেউ পাহাড় কাটার সাথে জড়িত নই। পাহাড় কেটেছেন আমার আম্মা। আমার মা আগ থেকে তার ওষুধ খরচের জন্য মাটি বিক্রি করেছিলো। তিনিই বাড়ি, গাছপালা এসব দেখা শোনা করেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মুঠোফোনে সরফভাটা ইউপি চেয়্যারমান শেখ ফরিদ উদ্দীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ব্যবহৃত মুঠোফোন না ধরায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে বনবিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র বলেন, ‘করোনার সুযোগে রেঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন কোথাও পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটছে কি-না জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতামত দিন