অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন করোনাজয়ী ডা. সামিরুল

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চট্টগ্রামে প্রথম প্লাজমা থেরাপি নেওয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সামিরুল ইসলাম মৃত্যবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত মে মাসে কারোনায় আক্রান্ত হলে ডা. সামিরুল ইসলাম চট্টগ্রামে প্রথম প্লাজমা থেরাপি নিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে গত ১৩ জুন তাকে চমেক থেকে বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালের কেবিনে নেওয়া হয়। এর মধ্যে তার করোনা নেগেটিভ প্রতিবেদন আসে। কিন্তু এরপর হঠাৎ করে বুধবার সকালে তার ফুসফুসের জটিলতা দেখা দেয়। অক্সিজেন স্যাচুরেশান কমে যায়। এরপর লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান।

ডা. সামিরুল ইসলামের মৃত্যু প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. মো. নুরুন নবী বলেন, উনার করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছিল। কিন্তু করোনায় ওনার ফুসফুসে যে সংক্রমণটা হয়েছিল, সেটি থেকে উনি রিকভার হতে পারেননি। এ জন্য উনাকে কন্টিনিউয়াসলি হাই ফ্লো অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। আজ (বুধবার) দুপুর ২টায় আইসিইউতে তিনি মারা গেছেন।

ডা. সামিরুল ইসলামের স্ত্রী চমেকের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনা ইসলাম এবং দুই সন্তানও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বাসায় চিকিৎসা নিয়ে তারা এখন সুস্থ আছেন।

চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পরও তিনি চিকিৎসা বন্ধ করেননি। নিয়মিত হাসপাতালে গেছেন এবং রোগীদের সেবা দিয়েছেন। রোগীদের অস্ত্রোপচারেও অংশ নিয়েছেন।

মৃত্যুর পর মানবিক চিকিৎসক সামিরুলের জন্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ হাহাকার করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সামিরুলের জন্য আবেগের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন অনেকেই।

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সসিবিলিটির (এফডিএসআর) যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী জানান ডা. সমিরুল ইসলাম বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ১৯তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তাকে নিয়ে করোনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮ জন চিকিৎসক।

মতামত দিন