উপবৃত্তির টাকা দেয়ার নামে অভিনব প্রতারণা

সুমন গোস্বামী:

সারাদেশে নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছে। ঘরবন্দি মানুষের লেনদেনের ক্ষেত্রে বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবহার। এই সুযোগে সক্রিয় হয়েছে প্রতারক চক্র। বিভিন্ন কৌশলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।
‘হ্যালো, আমি শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে বলছি, আপনার মেয়ে শিক্ষা উপবৃত্তি পেয়েছে। আপনার টেলিটক একাউন্টে একটু সমস্যা হয়েছে। এটি বন্ধ করে দেয়া হবে। যদি সঠিক তথ্য দিতে পারেন তবে আপনার একাউন্টটি সচল থাকবে একই সাথে উপবৃত্তি ৩৩০০ টাকা পেয়ে যাবেন।”
টেলিটক একাউন্টধারীদের দিনের বিভিন্ন সময় এভাবে ফোন করেই প্রতারণা করেছে প্রতারকেরা। এজন্য তারা উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে পরিবারে সদস্যদের সাথে। এতে ওই শিক্ষার্থী বা পরিবার একপ্রকার বিশ্বাস জন্মায় যে, ফোনটি শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকেই করা হয়েছে। এরপর প্রতারকেরা গ্রাহকের ভোটার আইডি কার্ডের নাম, নম্বর, পিতা-মাতার নাম জানতে চায়। বলা হয় আপনার নাম্বারে একটি ম্যাসেজ যাবে, পিন নাম্বারটি বলুন।
এরপর চারটি ম্যাসেজ আসলো শিক্ষার্থী টেলিটক নম্বরটিতে যা করার তা এর মধ্যে করা শেষ করেছে প্রতারকরা। গ্রাহককে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ফেলে এভাবেই তারা টাকা হাতিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পিতা বিমল মন্ডলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল দশটা দিকে কল আসলো (০১৪০২৪৫৮১০৯) উক্ত নম্বর থেকে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অফিস থেকে বলছি আপনি উপবৃত্তি টাকা পেয়েছেন। এই বলে কথা শুরু পরে অনেক কথা শেষে দেখলাম টাকা তো পেলাম না উল্টো আমার মোবাইল ৩৪০০টাকা ছিলো তা কেটে নিয়েছে তারা।
আরেক ভুক্তভোগী এস এম টেলিকম মালিক সুজন নন্দী বলেন, উপবৃত্তি টাকার কথা বলে প্রথমে বিভিন্ন কথা বলে এসএমএস দিয়েছে দুইটি। সবশেষে আরও তিনটি এসএমএস দেয়ার কথা বলে আমার মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট থেকে পাঁচ হাজার টাকা কেটে নিয়েছে। পরে দেখি মোবাইলটি বন্ধ ।
এই করোনা সময় এমন প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই সেই অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে তুলে ধরছেন।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট) পলাশ কান্তি নাথের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, করোনার এই সময়ে স্বাভাবিক ব্যাংকিং সীমিত হয়েছে। ফলে মানুষ যথাসময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম করতে না পেরে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। ফলে প্রতারক চক্র এই সুযোগ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু করোনার সময় নয় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের চক্র সুযোগ নিয়ে থাকে। যারা পেশাগতভাবেই এই প্রতারণার কাজ করে থাকে। আমরা ইতিপূর্বে অনেক অভিযান পরিচালনা করেছি। এই বিষয় অভিযোগ পেলে আমরা আইনআনুগ ব্যবস্থা নিব।

মতামত দিন