হাটাহাজারীতে প্রথম করোনা আইসোলেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু

সুমন গোস্বামী:

হাটাহাজারীতে যাত্রা শুরু করেছে প্রথম বেসরকারী প্রাতিষ্ঠানিক করোনা আইসোলেশন সেন্টার। ধলই সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে কাটিরহাট মহিলা ডিগ্রী কলেজে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে করোনা আইসোলেশন সেন্টারটি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রুহুল আমিন এ করোনা আইসোলেশন সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

১০ শয্যা বিশিষ্ট করোনা আইসোলেশন সেন্টারে থাকছে বিভিন্ন সুবিধা। এখানে রয়েছে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, অক্সিজেন সেবা, টেলিমেডিসিন সেবা, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা ফ্রি চিকিৎসা, ঘওে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছানো এবং করোনা রোগীদের আবাসিক সুবিধাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা খোলা এ আইসোলেশন সেন্টারে ধলই, ফরহাদাবাদ, মির্জাপুর সহ আশেপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের রোগীদের ভর্তি করানো হবে। এছাড়া পাশ্ববর্তী উপজেলা ফটিকছড়ির জনসাধারণকেও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে বলেও জানান উদ্যোক্তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার বদরুল আলম চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রুহুল আমিন। করোনা আইসোলেশন সেন্টারের উদ্যোক্তা বিপ্লব পার্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ধলই ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর জামান, হাটহাজারী প্রেসক্লাব সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়া, উপাধ্যক্ষ ছৈয়দুল আলম, কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিমুল কান্তি মহাজন, উদ্যোক্তা এইচএম আলী আবরাহা দুলাল, হাটহাজারী মেডিকেল অফিসার ডা.এসএম সাফায়েত ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এইচ এম জসীম উদ্দিন জিকো, রাজনীতিবিদ শাহজাহান মাহবুব,নাজিম উল্লাহ শরীফ বাবু, রফিক আলম চৌধুরী,প্রভাষক উদ্যোক্তা হেলাল মাসুদ মজুমদার, ইরফান চৌধুরী নয়ন,আজিম উল্লাহ,আজম উল্লাহ শরীফ, ডা.আমান উল্লাহ, ডা.শামসুল আলম,সাজিদুল করিম পারভেজ, সোহরাব হোসেন সহ অন্যান্যরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, মানবিককাজে সরকারের পাশে মানবিক মানুষগুলো এগিয়ে এসেছেন। এটি অত্যন্ত পজেটিভ বিষয়। ফলে চিকিৎসা সেবা পাবে এমন অভয় থাকলে করোনা রোগীরা মানসিকভাবে শক্ত থাকবে। হাটহাজারীতে করোনা রোগী বেশি নয়, শনাক্ত বেশি। কারণ হাটহাজারীতে বেশি পরিমান মানুষ করোনা পরীক্ষা করেছে। শুধু সরকার কাজ করলে হবে না। সরকারকে মানবিক হৃদয়ের মানুষগুলো সহযোগিতা করতে হবে। যেটি হাটহাজারীতে খুবই বেশি আছে। আমি দেখেছি করোনাকালে সরকার যে পরিমানণ ত্রাণ দিয়েছে তার দ্বিগুন ত্রাণ দিয়েছে মানবিক মানুষগুলো। ধলই আইসোলেশন সেন্টারের পরিবেশ খুবই চমতকার। আশাকরি করোনা রোগীরা ভয় না পেয়ে এখানে চিকিৎসা নিবেন। মানবিক এ কাজে সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ধলই ও আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন