জেলগেইট এলাকায় দুই রোহিঙ্গা মিলে বৃদ্ধের পা ভেঙ্গে দিয়েছে,থানায় অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা জেলগেইট এলাকায় রোহিঙ্গা দুই ভাই রফিক ও জুবাইরসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন মিলে স্থানীয় নুরুল আলম নামের এক বৃদ্ধকে সন্ত্রাসী কায়দায় মারধর করে পা ভেঙ্গে দিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা যায়,পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ১ জুলাই সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আহত বৃদ্ধ নুরুল আলম জেলগেইট ষ্টেশনে বিকাশের দোকানে চট্টগ্রামে চাকরিরত বৃদ্ধের ছেলে আবুল কাসেমের পাঠানো টাকা তুলে বাড়ী ফেরা পথে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা একই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা মোঃ রফিক (২৫) ও মোহাম্মদ জুবাইর (২৩) পিতা মৃত এনায়েত উল্লাহ সহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন মিলে তাদের হাতে থাকা লাঠি ও লোহার রট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে বৃদ্ধ নুরুল আলমের ডান পা ভেঙ্গে গিয়ে তখন সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।এসময় তার পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।আহত বৃদ্ধের শৌর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আহত নুরুল আলমকে দ্রুত সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি করিয়ে দেন।সে এখনো ও-ই হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে অভিযুক্ত রফিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,নুরুল আলম আমার ভাইয়রা ভাই।সে আমার স্ত্রীকে গালিগালাজ করেছে সে জন্য আমি রাগের মাথায় তাকে গাছ দিয়ে বারি মেরেছি এতে তার পা ভেঙ্গে গেছে।বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি।

আহত নুরুল আলমের ছেলে আবুল কাসেম বলেন,আমি চট্টগ্রামে একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে রাজ মেস্ত্রীর কাজ করি।প্রায় ২ মাসের বেতন তুলে গত ১ তারিখ বিকাশের মাধ্যমে আমার পরিবারের জন্য টাকা পাঠাই।সেই টাকা বিকাশের দোকান থেকে তুলে বাড়ীতে ফেরার পথে রোহিঙ্গা রফিক ও জুবাইর আমার বাবাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়।রফিক ও জুবাইর গত ৪-৫বছর পূর্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এসে বিসিক এলাকা থেকে রফিক বিয়ে করে জেলগেইট এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে জেলগেইট এলাকায় তাদের নেতৃত্বে একটা গ্রুপ আছে তারা প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাই করে সেটা এলাকার সবাই জানেন।

তিনি আরও বলেন,আমার বাবাকে মারধর করার খবর পেয়ে আমি চট্টগ্রাম থেকে চলে এসেছি। গত ৫ তারিখ আমার মাকে দিয়ে সদর থানায় হাজির হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দ্বায়ের করি।থানায় অভিযোগ করেছি জানার পর আসামীরা আমার পরিবারকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।আর টাকার অভাবে আমার বাবার চিকিৎসা করাতে পারছি না।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন,অভিযোগের বিষয়টি এই মুহূর্তে আমার জানা নেই তবে অভিযোগ আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন