বোয়ালখালীতে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বোয়ালখালী প্রতিনিধি: বোয়ালখালীতে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা” শীর্ষক প্রচার, প্রেসব্রিফিং ও সেমিনার আজ ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ (অপরাজিতা) বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম সেলিম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা বেগম। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম, চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান মোনাফ, চেয়ারম্যান কাজল দে, চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, চেয়ারম্যান শফিউল আজম সেফু, বোয়ালখালী প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট সেলিম উদ্দিন চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সৈয়দ মোঃ নজরুল ইসলাম, বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা” শীর্ষক প্রচার, প্রেসব্রিফিং ও সেমিনার বিভিন্ন সচেতনমূলক তথ্য তুলেধরেন চট্টগ্রাম মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র শিক্ষক আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

সভায় তিনি বলেন নিরাপদ, সুশৃংখল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতের জন্য জনসচেতনতা সৃজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি উপজেলা থেকে গড়ে ১০০০ দক্ষ কর্মী প্রতি বছর বিদেশ প্রেরণ করতে হবে।
তাই আজ আমরা প্রতিটি উপজেলা বর্তমান সরকার, নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ ঘোষণাকালে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন “ নির্বাচনে বিজয়ী হলে আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ২৮ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃজনের পরিকল্পণা আমাদের আছে এবং প্রতি উপজেলা হতে গড়ে ১০০০ জন যুব বা যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে”।
এ লক্ষ্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হতে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা আরো জানেন, জনবলের অভাবে বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পড়েছে। সে সব দেশ অন্য দেশ হতে জনশক্তি নিয়ে তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৯৭৬ সাল হতে বাংলাদেশ বিদেশে জনশক্তি প্রেরণ শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৩ টি দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষ্যের অধিক বাংলাদেশী কর্মী বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত আছেন। তারা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়নের অধিক মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে প্রেরণ করে থাকেন যা দেশের অর্থ‣নতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতি বছর ২০ লাখের অধিক নতুন জণশক্তি শ্রমবাজারে যোগদান করছেন। দেশের অর্থনীতি বছরে ১০ লাখের মত কর্মসংস্থান করতে সক্ষম। বাকি ১০ লাখের অধিক কর্মী বিদেশে কর্মলাভ করতে চান। তাদেরকেই বলা হয় অভিবাসী বা বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মী। বর্তমানে বছরে প্রায় ৭ লক্ষ অভিবাসীর কর্মসংস্থান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিদেশে হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের ঘোষণায় এক আলোকবর্তিকা । ফলে আমাদের সবার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে।
বিদেশের শ্রম বাজারে অদক্ষ কর্মীর চাহিদা কমে আসছে । সে․দি আরবসহ মধ্য প্রচ্যের কয়েকটি দেশে হাউজহোল্ড শ্রমিক ছাড়া অদক্ষ কর্মীর তেমন কোন চাহিদা নেই। এসব দেশে নতুন নতুন পলিসির মাধ্যমে নিজেদের জনবলকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করায় অদক্ষও দক্ষ বিদেশী শ্রমিকের চাহিদা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলে অনেক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হচ্ছে।

উন্নত দেশ জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাদের দেখভাল করার মত মানুষ জাপানে নেই বললেই চলে । জনবলের অভাবে তাদের অর্থনীতির চাকাও প্রায় অচলের পথে। তাই জাপান বিশ্বের ৮ টি দেশ হতে জনবল নিয়ে তাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার চেস্টা করছে। ২০১৯ সালের মে মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবেকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়ে জাপানের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার আহবান জানালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানন্দে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের ফসল জাপান সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটি নতুন শ্রম বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর।

২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট টুকিওতে জাপান সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতামূলক মেমোরেন্ডাম স্বাক্ষরিত হয়েছে । ফলে বাংলাদেশ এখন জাপানে দক্ষ জনবল প্রেরণের জন্য ৯ম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর ভিত্তিতে জাপান সরকার ১৫ টি ক্যাটাগরিতে Specified Skill Worker (SSW) ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাপানী ভাষাগত দক্ষতা ঘ৪ লেভেল এবং কাজ জানার দক্ষতা শ্রমিকের অবশ্যই থাকেতে হবে। জাপান সরকার পরীক্ষা নিয়ে একটি প্যানেল তৈরী করবে। সেই প্যানেল হতে জাপানী কোম্পানীসমূহ কর্মী বাছাই করে চাহিদা পত্র দাখিল করতে পারবে এবং দুই সরকারের অনুমোদন ক্রমে কর্মীদেরকে জাপানে নিয়ে কাজে নিয়োগ করবে। এটি একটি Cost Migration পদ্ধতি । কর্মীকে কোন প্রকার অভিবাসন ব্যয় বহন করতে হবে না।

মতামত দিন