লামায় অন্তসত্তা মহিলাকে মারধর, থানায় মামলা

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নিজস্ব সংবাদদাতা, লামা:
লামায় রোকেয়া বেগম নামে এক অস্তসত্তা মহিলাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের সময় তলপেটে লাথি মারার কারণে প্রচুর রক্তখনন হয়ে অনাগত গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়, এমন অভিযোগ তুলে নির্যাতনের শিকার ওই মহিলা সোমবার রাতে লামা থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত মহিলা তিনদিন যাবৎ লামা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মহিলার করা মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ শাহীনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। রোকেয়া বেগম লামা সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বৈল্যারচর গ্রামের মোঃ শাহ আলমের স্ত্রী।

লামা থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, রোকেয়া বেগম ২৯৪নং লামা মৌজার ২৪নং হোল্ডিং এর ১ একর ১ম শ্রেণীর জায়গার মালিক। উক্ত জায়গায় সে কলা ও বাইজ্যা বাঁশের চাষ করে দীর্ঘ দিন ধরে ভোগ দখলে আছে। উক্ত জায়গার উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ১নং বিবাদী বৈল্যারচর এলাকার মৃত আবুল হাসেম এর ছেলে মোঃ রবিউল আলম ভূঁইয়ার। গত ১২ জুলাই ২০২০ইং রবিবার সকাল ১০টায় মামলার ১নং বিবাদীর প্ররোচনায় ৪নং বিবাদী আব্দুল হাকিম আমার জায়গার কলা বাগানে ৪০/৪৫ টা ছাগল লাগিয়ে দেয় এবং শ্রমিক দিয়া ধান চাষের কাজ করতে থাকে। আমার স্বামী মোঃ শাহ আলম (৩৮) ঐদিক দিক দিয়ে যাওয়ার পথে এইসব দেখে আমাকে ফোন করে জানায়।

আমি বিবাদীর অবৈধ দখলের প্রতিবাদ করার জন্য যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাহাড় ভাঙ্গায় এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা মোঃ রবিউল আলম ভূঁইয়া, তার ছেলে মোঃ আজিজ, সহযোগী পার্শ্ববর্তী মোঃ শাহ নেওয়াজের ছেলে মোঃ ফয়সাল নেওয়াজ জনি অতর্কিত ভাবে একযোগে লোহার রড় নিয়ে আমার উপর হামলা করে। ১নং বিবাদী লোহার রড় দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথায় বারি মারলে মারাত্মক ফুলা জখম হয়। ২নং বিবাদী আমার বাম গালে ঘুষি মেরে ফুলা জখম করে। সাথে সাথে আমি মাটিতে পড়ে গেলে ২নং বিবাদী আমার গলা চেপে ধরে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় ১নং বিবাদী আমার তল পেটে স্ব-জোরে লাথি মারিলে উক্ত আঘাতের ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার এক মাসের অন্তসত্তা নষ্ট হয়ে যায়। তারপর ১নং বিবাদী আমার চুলের মুটি ধরে আমাকে চারদিকে ঘুরাইতে থাকে। ৩নং বিবাদী মাঃ ফয়সাল নেওয়াজ জনি ঘটনার সময় লোকজন আসছে কিনা তা পাহারা দিচ্ছিল।

এসময় আমার হাতে থাকা নীল রংয়ের ছোট ব্যাগের ভিতর হতে সেম্ফোনি-বিএল৬০ মডেলের ১টি মোবাইল (সিম ও মেমোরি কার্ড সহ) এবং নগদ ৫ হাজার টাকা ১নং বিবাদী নিয়ে যায়। মারধরের সময় একই এলাকার মোঃ মোস্তফা ঐ পথ দিয়ে আসতে দেখলে তারা আমাকে মুমূর্ষ অবস্থায় ফেলে যায়।

এই বিষয়ে মোঃ রবিউল আলম ভূঁইয়ার মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কথা হয় তার ছেলে মামলার ২নং বিবাদী মোঃ আজিজ এর সাথে। তিনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বিরোধীয় জায়গা তাদের বলে দাবী করেন।

মতামত দিন