মৃত শ্রমিকের ওয়ারিশদের গ্রপ বীমা দাবী চেক হস্তান্তর করেছেন চট্টগ্রামের মেয়র


চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, করোনাকালে মানবসেবা ও সংকট পরিত্রাণে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগ সরকারের সহায়ক শক্তি। যাঁরা এই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসছেন তাঁরা আর্তমানবতার আপনজন। তিনি আরো বলেন, দেশ ও সমাজের ক্রান্তিকালে যাঁরা সেবা দিচ্ছেন তা যেন লোক দেখানো না হয়। এক্ষেত্রে সততা-ই হলো কাজের সফলতার বড় মাপকাঠি। সেবার নামে কিছু অসৎ মানুষ, যারা সংখ্যায় খুবই কম কিন্তু প্রভাবশালী, তারা পরিস্থিতির সুযোগে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে, ধনসম্পদের পাহাড় গড়ছে- তারা নষ্ট মানুষ। এমন ক’জন নষ্ট মানুষকে সনাক্ত করে সরকার তাদের গ্রেফতার করেছে, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করেছে। যারা সমালোচক তাদের বোঝা উচিত, মুখে অনেক কিছুই সহজে বলা যায়। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলা খুবই কঠিন। বিশ্বমানবতার জননী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একের পর এক সেই কঠিন কাজটিই করে যাচ্ছেন। দুর্বলেরে রক্ষা করো, দুর্জনেরে হানো,- এটাই শেখ হাসিনার জীবন ব্রত। সুতরাং দুর্জন নষ্ট মানুষেরা সাবধান, শেষ রক্ষা হবে না। আজ বুধবার বিকালে টাইগারপাসস্থ চসিক মেয়র দপ্তরে বিজিএমইএ’র পক্ষ হতে ১২ টি পোশাক শিল্পের ১৬ জন পোশাক শ্রমিকদের মৃত্যুবরণকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের উত্তরাধিকারীদের নিকট গ্রæপ বীমা দাবীর মোট ৩২ লাখ টাকার চেক প্রদান ও চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য ১ হাজার পিস ফেইস-মাস্ক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মেয়র এসব কথা তুলে ধরেন। তিনি বিজেএমইএ- এর উদ্দেশ্যে বলেন, তৈরী পোশাক রফতানী শিল্পখাত দেশের রফতানী আয়ের শীর্ষ উৎস। এই খাতটির বিকাশের উপর অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন নির্ভরশীল। বিজেএমইএ বর্তমান সংকট মোকাবেলায় কিছু সেবামূলক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে,পোশাক শিল্প শ্রমিক কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের জন্য সেবা কেন্দ্রও খুলেছেন। এজন্য সাধুবাদ জানাই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সংকট অবশ্যই একদিন কেটে যাবে। সরকার এই খাতে যে প্রণোদনা দিয়েছে তা তাদের টিকে থাকতে ভিত্তি দেবে। পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বাঁচিয়ে রেখে মালিকরাও বাঁচবেন এবং সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণে ঝাঁপিয়ে পড়বেন- এটাই জাতির প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি জনাব মোহাম্মদ আবদুস সালাম তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মৃত শ্রমিকগণের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন- শ্রমিকরা এ’শিল্পের প্রাণশক্তি। বিজিএমইএ শ্রমিক কল্যাণ কর্মসূচীর আওতায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদান, শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য অবৈতনিক স্কুল এবং শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক বীমা সুবিধা প্রদান করে আসছে। বর্তমান কোভিড-১৯ সৃষ্ট মহামারীর কারণে শ্রমিক কর্মচারী ও স্থানীয় দরিদ্র জনগণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিজিএমইএ কোভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল চালু করেছে এবং ইতিমধ্যে রোগী ভর্তি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তিনি শ্রমিক কল্যাণে বিজিএমইএ’র গৃহীত বিভিন্ন কর্মকান্ডে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, বিজিএমইএ এর প্রথম সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সহ সভাপতি এ.এম.চৌধুরী সেলিম, পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন, পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, প্রসেস ম্যানেজার মো. মাহবুব আলম ভুঁইয়া, স্মিথ রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন