রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি নীচের বাজারে ব্রীজ ভেঙ্গে পড়ায় দূর্ভোগে হাজারো মানুষ

ইকবাল হোসেন, রাঙামাটি ||

রাঙামাটি জেলা শহরের তবলছড়ি নীচের বাজার-মাস্টার কলোনী সংযোগ সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় বিপাকে পড়েছে হাজারো মানুষ। এই সেতুটি দিয়ে বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ বাজারে আসা-যাওয়া করে। তাই ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ায় বিভিন্ন এলাকার মানুষদের পাশাপাশি উক্ত এলাকার বাসিন্দারাও বিপাকে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রীজটি অপর পার্শ্বের বাসিন্দাদের বাজারে আসা যাওয়া করতে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকবছর হলো ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে স্কুল-কলেজ খোলা থাকা অবস্থায় শত শত শিক্ষার্থী এই ব্রীজ পাড় হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করে। ২০১৭ সালের পাহাড় ধ্বসের সময় এই ব্রীজটির একটি অংশ ভেঙ্গে গিয়েছিলো। তখন জনপ্রতিনিধি কাঠের পাটাতন দিয়ে চলাফেরার ব্যবস্থা করেছিলো।

কিন্তু এবার পাটাতন দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থাও করা সম্ভব না। সরকার দলীয় অনেক নেতা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ব্রীজটির বেহাল দশা দেখে বেশ কয়েকবার মেরামতের আশ্বাস দিয়ে গেছেন। কিন্তু তাদের দেয়া আশ্বাস আমাদের দীর্ঘশ্বাসের মধ্যেই থেকে গিয়েছে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। এইবার যেহেতু ব্রীজটি একবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, দেখি এবার হয়ত দায়িত্বশীলদের ঘুম ভাঙ্গবে।

এবিষয়ে উক্ত এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম সওদাগর বলেন, ব্রীজটি দিয়ে এই এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ চলাচল করে। ২০১৭ সালে ঘটে যাওয়া রাঙামাটির স্বরণাতীতকালের সর্ববৃহৎ দূর্যোগ পাহাড় ধ্বসের সময় ব্রীজটির একটি অংশ ভেঙ্গে যায়। তখন জনস্বার্থে ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বাবু নিজ উদ্যোগে কাঠের পাটাতন বসিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন।

এরপর বছর না ঘুরতেই ২০১৮ সালে পাটাতনটি ভেঙ্গে যায়, তখন আমি সবার কথা চিন্তা করে নিজ খরচে স্থানীয়দের নিয়ে নতুন করে কাঠের পাটাতন বসিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করি। কিন্তু গত ৯ আগস্ট ব্রীজটি এমনভাবে ভেঙ্গে পড়েছে মেরামত করে মানুষের চলাযোগ্য করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা।

তিনি রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একমাত্র মেয়র মহোদয়ই আমাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যমটি চলাযোগ্য করে দিতে পারেন।

এবিষয়ে পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, এই ব্রীজটিকে ২০০১ সালে পৌরসভা যেভাবে তৈরি করে দিয়েছে তাতে এত দ্রুত চলাচলের অযোগ্য হওয়ার কথা না। তবলছড়ি মাছ বাজার সংলগ্ন হওয়ায় মাছ ব্যবসায়ীরা তাদের বোট গুলো ব্রীজটির সাথে বেঁধে রাখে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে বোট গুলোর ধাক্কায় ব্রীজটি ক্ষয় হতে হতে এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্রীজটি ইতিমধ্যে আমরা মাপঝোঁপ করেছি। যেহেতু ব্রীজটি আমার পৌর এলাকার মধ্যে অবস্থিত, হাজারো মানুষ এই ব্রীজটি দিয়ে চলাচল করে আর জনসংখ্যাও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমার পৌর এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার্থে অতিশীঘ্রই আমি নিজে সরেজমিনে ব্রীজটি পরিদর্শন করবো। পৌরসভার পক্ষ থেকে মেরামত করা সম্ভব হলে মেরামত করে দিব। আর তা না হলে নতুন করে ব্রীজ নির্মাণ করে দিব।

মতামত দিন