আমাদের সন্তানেরা মানি মেশিন না হয়ে মানুষের মতোই মানুষ হউক

পঞ্চম শ্রেণীর গন্ডি পেরিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বইয়ের কথা মনে পড়ছে। ভাব সম্প্রসারণের নামে দুই লাইনের মূল কথাকে ইনিয়েবিনিয়ে একশো লাইনের নীতি গদ্য তৈরী করতে হতো। আর রচনা লেখায় থাকতো ২০-৩০ নম্বর! ৪০ নম্বরেরও পেয়েছেন কেউকেউ। এই রচনা লেখাটা আমার কাছে একটি নির্ধারিত বিষয়ের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট করার মত ছিলো। মজার বিষয় ছিলো সবাই একটা প্রতিযোগিতা করতো- যে যত বেশি পয়েন্ট বা প্যারা লিখতে পারবে তারটা ততো বেশি মার্কস পাবে। এইজন্য বৃক্ষ রোপনের প্রয়োজনীয়তা নামক রচনায় হলিউডের সিনেমা তৈরিতে বন জঙ্গলের প্রয়োজনীয়তাকেও তুলে আনার চেষ্টা থাকতো।

এই রচনা লেখার শিক্ষাটা কিছু কারনে বুকে একটি দীর্ঘশ্বাস হয়ে আছে। মনে হয় এই রচনা মূখস্ত করে পাশকরা বিদ্যা আসলে শুধু কাগুজে সার্টিফিকেট দিয়েছে; মানুষের ভেতরের মানুষটিকে যথাযথ প্রতিষ্ঠা করার প্রকৃত শিক্ষা দেয়নি।

একটি রচনার কথা খুব মনে পড়ে – জীবনের লক্ষ্য। এই রচনা লিখতে গিয়ে গণহারে সবাই মানবতার সেবক হয়ে যেতাম। এমন রচনা লেখা হাজার হাজার বই ঘেঁটে কোথাও পাইনি আমি ‘একজন চোর হবো’ ‘একজন ঘুষখোর হবো’ ‘একজন আড়ৎদার হবো’ ‘একজন ভূমিদস্যু হবো’ ‘একজন ঠকবাজ ঠিকাদার হবো’- কোত্থাও নেই! অথচ আজ শিক্ষিত চোর, জোচ্চোর, ঘুষখোর, আর ভূমি দস্যুদের ভীরে নিরিহ আর সৎ আদর্শবান মানুষ গুলো বাস্তুচ্যুত ফেরারি!

রচনায় যদি কেউ কালেভদ্রে একজন পুলিশ হতে চেয়েছে তাও আবার সেটা বানিয়েছে বলিউডের গাব্বর সিং অথবা রাউডি রাথোরের মতো! অথচ আজ পুলিশ বিভাগের প্রতি নির্যাতন লুন্ঠন ঘুষের অসম্মানজনক অভিযোগ বেশি। দু চারজন রাউডি রাথোর খুজে পাওয়া গেলে- তারা হয়তো ওএসডি অথবা পানিশমেন্ট ট্রান্সফার! আর না হলে প্রাপ্য প্রমোশন আর সম্মান বঞ্চিত।

কেউ যদি কোনভাবে রাজনীতিবিদ হতে চেয়েছে তাহলে সেই রচনায় নিজেকে চালিয়ে দিয়েছে টলিউডের ফাটাকেষ্টের গুরুজন বলে। অথচ আজ
বিশ্বব্যাপী রাজনীতিবিদদের অপরাজনীতির বলী হচ্ছে ইরাক লিবিয়া আফগান পাকিস্তান সিরিয়া প্যালেস্টাইন। মানবতার ভন্ড ফেরিওয়ালাদের খামখেয়ালী রাজনীতির নির্লজ্জ বেহায়াপনায় বিলুপ্ত হচ্ছে রোহিঙ্গা, উইঘুর সহ বহু আদিবাসী সম্প্রদায়। আমাদের দেশের রাজনীতির কথা বলার ভাষা নেই।

সবচেয়ে বেশি লেখা হত ‘আমি ডাক্তার হবো’। এতো এতো ডাক্তার হতে চাইতো যে রোগী বলতে শুধু শিক্ষক মশাই আর স্কুলের ঘন্টা বাজানো দারোয়ান ছাড়া আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। ষষ্ঠ শ্রেণীর এই লক্ষ কোটি ডাক্তারেরা ক্লাস নাইনে এসে কেউ কেউ বাণিজ্য বিভাগের যোগ বিয়োগে ব্যস্ত হয়ে যেতো আর কেউকেউ মানবিক বিভাগের অমানবিক ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতো। বাকি ভাবুক ডাক্তারেরা তখনও রচনার উপর এমন সব আবেগ আর স্বপ্নের আল্পনা আঁকত যে মনে হতো ডাক্তারি আসলে কোন পেশাই না; ডাক্তারি হচ্ছে কবি সাহিত্যিকদের প্রেমের রংতুলি!
আহ! কত স্বপ্ন! আমি ডাক্তার হয়ে সোজা খাগড়াছড়ির আলুটিলায় চলে যাবো। সেখানে বঞ্চিত মানুষের গিরায় হাতুড়ির বাড়ি মারবো; শিরায় আলসারের ইঞ্জেকশন দেবো! একেকজন ডাক্তার যেন সাক্ষাৎ ভগবান!

আহা! আমার সেই ডাক্তারেরা এখন মাথা ব্যাথার জন্য পেটের উপর মলম লাগায়। হালকা বদহজমের জন্যও মাল্টিভিটামিন এ টু জেড লিখে দেয়। মাঝে মাঝে দেখি উদার হৃদয়ের চিকিৎসক নিজের দামি ঘড়ি, সিজার, গজ রোগীর জন্য এতোটাই গোপনে দান করেন যে; সেটা পেটের ভেতরে রেখেই সেলাই করে দেয়! এছাড়া ল্যাব টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এমনকি আইসিইউতে মৃত লাশ নিয়ে ব্যাবসা করার খবর গুলো দেখে মনে হয় আমরা সবাই ডোম সম্প্রদায়ভুক্ত হয়ে গেছি।

আজকাল একজন ডাক্তারের তিন চার মিনিটের সাক্ষাতের শুধু ফি প্রদানের জন্য একজন দিন মজুরকে তিন চারদিন ঘাম ঝড়াতে হয়। এরপরতো সিনেমার লাইলীর প্রেমে মজনুর সব বিসর্জনের কাহিনী আর ডিপজলের সেই ডায়ালগ- আহ ভাতিজা আহ!!

আমি আশ্চর্য হই একটা বিষয় ভেবে- আজকের দিনের প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারেরা যখন ‘আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো’ -এই রচনা লিখতো -তখন অসুখে বিসুখে ডাক্তারের কাছে গেলে সেই ডাক্তারের হাসিমুখের সম্বোধন পেয়েই মন শক্তি পেয়ে যেতো। তখনকার ডাক্তারেরা পেশেন্টের নাম ঠিকানা লিখে তার জিহ্বা চোখ হাতের তালু পেট বুক নিজে পরিক্ষা করে চিকিৎসা দিতো। কোন বিশেষ কারণ ছাড়া অন্যকোথাও রেফার বা টেস্ট করানোর হয়রানি করতো না। অথচ এখন ডাক্তারের কাছে গেলে মনে হয় সুযোগ হলে নাম লেখার আগেই টেস্ট করানোর ফর্দটা লিখে দেয়। প্রায় প্রত্যেক ডাক্তারের নামের সম্মানজনক ডিগ্রী গুলোর পাশাপাশি কমিশন বাণিজ্যের অসম্মানজনক উপাধি যুক্ত।

আগে চিকিৎসা বিদ্যায় এখনকার মত এতো গবেষণা বা যন্ত্রপাতি ছিলো না। গ্রে’স এনাটমি অথবা প্রিন্সিপালস ঘেঁটে ঘেঁটে মানবদেহের নানান রোগের কারণ আর উপসর্গ নিয়ে চর্চা করতো। আজকের বিজ্ঞান আমাদের সবকিছুতেই গতি দিয়েছে কিন্তু আন্তরিকতা আর সততাকে দিনদিন জাদুঘরে বাক্সবন্দী করছে। এখনকার বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার তকমা লাগিয়ে আমরা ফায়দা লুটছি ঠিকই কিন্তু এই বিজ্ঞান দিনদিন আমাদের মানুষদেরকে বেকার করে দিচ্ছে। কদিন পরে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদের চিকিৎসা আর মানুষ করবেনা; করবে আধুনিক যন্ত্রপাতি গুলো! আমাদের মনুষ্যত্ব আর শ্রেষ্ঠত্বের গৌরবকে গ্রাস করে নিবে রোবোটিক মেশিনারি। তখন এই বেকার মানুষ গুলোর মধ্যে মানবিক গুণাবলি না থাকলে কেমন হবে আমাদের জীবন?

ডাক্তারি নিয়ে অনেক কটু কথা শুনা গেলেও এখনো এমন বহু ডাক্তার খুজে পাওয়া যায় যারা সততা নিষ্ঠা এবং সেবাকে সত্যিই শিল্পের পর্যায়ে তুলে এনেছেন। স্যালুট তাদের কে।

ফিরে আসি আরও দু একটি ‘জীবনের লক্ষ্যে’। কেউকেউ উকিল হয়ে সেবা করতে চাইতো। অথচ এখন সেই লক্ষ লক্ষ উকিলের ভীড়ে কোটি বিচার প্রার্থীর একটাই প্রার্থনা ‘হে খোদা শাস্তি আমাকে দাও তবুও উকিলের ফাঁদে ফেলিওনা। জীবন আর জমি ফুরিয়ে যাবে তবু মামলার জট ছাড়াবেনা।
যারা সৎ নীতিবান আমলা হয়ে দেশের সেবায় জান কুরবান করার কথা লিখেছিলো তাদের লালসার কাছে রাষ্ট্রের জনগণ জিম্মি হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তারা রাজত্ব করে আর জনগণ জিম্মি প্রজার মতো গায়ের ঘামের সাথে চোখের পানির রঙ মিলায়! হায়রে আমাদের শিক্ষা আর হায়রে আমাদের রচনা ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’! এরমাঝেও হাজারো ব্যাতিক্রম আছে। কিন্তু অনেক সৎ আর মেধাবী আমলাকে যখন দেখি বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয় দূর্গম এলাকায়; তাদের মেধা আর যোগ্যতাকে করে রাখা হয় খাঁচা বন্ধী তখন কষ্ট হয়।

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আমার অনেকগুলো অভিযোগ। এখানে শিক্ষা আসলে কারো অধিকার হিসাবে নেই। এখানে শিক্ষাব্যবস্থাটা হয়ে গেছে সম্পূর্ণ বানিজ্য। জ্ঞানী আর শিক্ষাবিদেরা হয়ে গেছে কালোটাকার মালিকদের বেতনভুক্ত কর্মচারী। প্রাইভেট স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা দেখে এরচেয়ে ভাল ধারণা আসেনা। ধনী গরীব বৈষম্য, কোচিং বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, প্রশ্ন ফাঁস, শিক্ষাবোর্ড আর অধিদপ্তরের লাগামহীন দূর্নীতি, ছাত্র রাজনীতির শিক্ষা বহির্ভূত লালসা এবং ক্ষমতাবানদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাবহার সহ আরও অনেক গুলো কারনে আমাদের এই মৌলিক অধিকার আজ মুলা ঝুলানো বাণিজ্যের ব্লেন্ডারে বিলীন হয়েছে।

সাড়ে তিন চার বছরের বাচ্চাকে নিয়ে বাণিজ্য শুরু হয়ে যায়। রাজধানীর অনেক স্কুল এখন চার বছরের উপরে এক মাস বেশী হলেও ভর্তি করাতে চায়না। কোমলমতি শিশুদের পিঠে বইয়ের বস্তা, চোখে থ্রি এমএম সাইজের চশমা দেখে মনে হয় তারা শিক্ষিত হচ্ছে? আফসোস হয় বাবা মায়েদের জন্য। যে শিশুটি এখনো ঠিকমত চলতেই শিখেনি তাকে টেনে হিচড়ে বিদ্যালয়ে বাধ্য করে তার আগামীকে কেন নষ্ট করছেন? পৃথিবীটা সুন্দর, শিক্ষা গ্রহণ আনন্দের, বিদ্যালয়ে খেলাধুলা হয়; আনন্দ হয় -এই বিষয় গুলো তাকে তার মন থেকে গ্রহণ করার সময় সুযোগটা দিন! এখনকার মা বাবা তাদের সন্তানকে নাচ গান খেলাধুলা ছবি আঁকা এইসেই সবকিছু একসাথে চাপিয়ে দিতে চায়। আরে ভাই আপনি এই শিশুকে মাল্টি ট্যালেন্ট বানাতে গিয়ে তাকে মাল্টি ফাংশনের মেশিন বানিয়ে দিচ্ছেন! এইটা আপনার সন্তান – স্মার্ট ফোন অথবা চায়না মাল না! স্মার্ট ফোনে একসাথে অনেক ফাংশন পাবেন -এই কোমলমতি শিশুদের মধ্যে না। তাকে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণে উৎসাহিত করুন। সে মন থেকে যেটা গ্রহণ করে সেই পথে সফল হতে সহযোগিতা করুন। দেখবেন সে সত্যিই সফল মানুষ হয়ে উঠছে। আপনি যাকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাতে জেল স্কুলে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন- তার মেধা মনন আর প্রতিভা হয়তো ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। আপনি যে সন্তানকে সায়েন্স পড়িয়ে গবেষক হওয়ার চাপ দিচ্ছেন সে হয়তো নিজের মন মতো কমার্স নিয়ে পড়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে চায়। এইজন্য আমাদের উচিৎ সন্তানের জীবনের লক্ষ্য সঠিকভাবে নির্ধারণের উপাদান উপকরণ গুলো যথাসম্ভব সামনে এনে দেয়া। কোথায় সমস্যা আছে সেটা তাকে বুঝিয়ে বিকল্প গুলো চিনিয়ে দেয়া; ঝুঁকি গ্রহণের অনুপ্রেরণা এবং সাহস দেয়া এবং তার লক্ষ্য পূরণে তাকে এগিয়ে নেয়া।

আর আমার মতে প্রাইমারী স্কুল গুলোকে ঢেলে সাজানো উচিৎ। মাঠ ছাড়া কোন বিদ্যালয়ের অনুমোদন হবেনা। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো হতে হবে সম্পূর্ণ শিক্ষা বান্ধব। বাচ্চারা খেলাধুলার মধ্যে থেকে প্রাইমারী শিক্ষা গ্রহণ করুক। আমার মতে বাচ্চাদের জন্য প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস থাকবে। তারা সেখানে ফুল বাগান করবে। একটি ফুলের চারা তৈরী করে সেটাকে যতœ দিয়ে কিভাবে ফুল ফুটাতে হয়; আর সেই ফুল ফুটার পর তার চোখে মুখে সাফল্যের যে হাসি সেটা আপনি একবার কল্পনা করে দেখুন। একটি ফুলের গাছকে ঘিরে তার সিলেবাস তৈরি হউক। এই সিলেবাসেই থাকবে তার বর্ণমালার হাতেখড়ি। একটি ফুল বাগানের গল্প সাজাতে গিয়ে আপনি টেনে আনতে পারেন বিজ্ঞানের সংযোগ; টেনে আনতে পারেন পাখি আর অন্যান্য প্রাণীর গল্প। টেনে আনতে পারেন ডাক্তারে প্রয়োজন; ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন অথবা ব্যাবসায়ীর সংযোগ। আপনি এখানে ফুলের বাগানের পাশে যদি শাকচুন্নী আর মামদো ভুতের একটা আস্তানা বানিয়ে দেন তাহলে বাচ্চার আগ্রহের কেন্দ্র হবে এই বাগানের মত স্কুল। সে এই বাগানে তার শিক্ষকদের টেনে টেনে নিবে আর জানতে চাইবে এইটা কি ঐটা কি? সব বাচ্চাদের একটি একটি ফুলগাছ দিয়ে একটি পরিপূর্ণ ফুলের বাগান সৃষ্টির সাফল্য নিয়ে যে বাচ্চারা জীবনের শিক্ষাকে এগিয়ে নিবে তারা ক্লাস এইটে আর মুখস্ত করে জীবনের লক্ষ্য রচনা লিখবেনা। তারা ক্লাস নাইনে উঠে চাপিয়ে দেওয়া সাইন্স বা কমার্স নিবেনা। তারা নিজেরা স্থির করবে জীবনের লক্ষ্য এবং নির্ধারণ করবে নিজের লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট শাখা। এইজন্য অন্তত ক্লাস থ্রি ফোর পর্যন্ত ধাপে ধাপে খেলাধুলা, সামাজিকতা, বিজ্ঞান, পরিবেশ, ধর্ম সহ অন্যান্য বিষয় গুলো কে একদম হাতে কলমে শিক্ষা দেয়ার মত ব্যাবহারিক সিলেবাস এবং অবকাঠামোর পরিবেশ হউক। প্রাইমারি স্কুলে কিসের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস? আমি বলবো এইটা একটা অবিবেচক সিদ্ধান্ত। প্রাইমারি স্কুল হউক সম্পূর্ণ হাতে কলমের শিক্ষা। এইখানেই তার শিক্ষা জীবনের বীজ বপন হয়। এই ভিত্তি যদি মানবিক স্পর্শে গড়ে না উঠে- তার ভবিষ্যৎ মানবিক গুণ সম্পন্ন হবে কিভাবে? প্রাইমারী শিক্ষকদের আদর শাসন শিশুর মানসিক বিকাশে এবং ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাইমারী স্কুল শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো দরকার। শুধু তাই নয়; আমার মতে প্রাইমারী স্কুল শিক্ষদের সম্মানের জায়গা টিও হউক মা বাবার পরে সবার উপরে।

আমরা সবাই সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে চাই বলে বলে আসলে তাকে তৈরি করছি মানুষের মতো মানি মেশিন। এইটা আমাদের ভুল; আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভুল। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন আপনি জীবনের লক্ষ্য রচনা লিখতে গিয়ে কি হতে চেয়েছিলেন আর কতগুলো নীতিবাক্য লিখেছিলেন। সেটার সাথে আপনার আজকের জীবনের মিল কতটুকু? আমাদের রচনায় আমরা প্রায় সবাই চেয়েছিলাম ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার উকিল হয়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে মানুষের সেবায় নিবেদিত হবো। সেই আমরা আজ শহরের অলিগলিতে মানি মেকার হয়ে পার্মানেন্ট ঠিকানা খুঁজি। আমরা ভুল! আমাদের সন্তানেরা মানুষের মতো মানি মেশিন না হয়ে; মানুষের মতো মানুষই হউক।

এম. জহির,

সমাজকর্মী ও মানবধিকারকর্মী

ঢাকা।

 

মতামত দিন